চাষাবাদে আধুনিকতার ছোঁয়া ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দেশে চা উৎপাদন বেড়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মোট ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি (৯৪.৯৩ বিলিয়ন) চা উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপসহ ২৫টি দেশে ১.৬৪ বিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি হয়েছে। ২০২৬ সালে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবসে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ এ কথা বলেন।
ওই অনুষ্ঠানে চা শ্রমিকরা আক্ষেপ করে বলেন, ঝড়-বৃষ্টি, রোদ আর তুফানের মধ্যে প্রতিদিন আট ঘণ্টা কাজ করেও তারা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না।
চা শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান মজুরিতে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই কঠিন।
অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গলের মাজদিহি চা বাগানের নারী শ্রমিক সনতকি রায় বলেছেন, আমরা ঝড়-বৃষ্টি, রোদ ও তুফানের মধ্যে কাজ করি। কিন্তু যে মজুরি পাই, তা দিয়ে সন্তানদের ভালো খাবার দিতে পারি না। অনেক বাগানে নারী শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার সুবিধাও নেই। একটি ঘরে ছয়-সাতজন মানুষ থাকতে হয়।
তিনি আরও বলেছেন, বর্তমান মজুরিতে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন। অস্থায়ী শ্রমিকরা রেশন সুবিধা পান না। শ্রমিক পরিবারের সদস্যসংখ্যার তুলনায় আবাসন ব্যবস্থাও অপ্রতুল।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নেপচুন চা বাগানের শ্রমিক ও এ বছর শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী হিসেবে জাতীয় চা পুরস্কার পাওয়া জেসমিন আক্তারও শ্রমিকদের বিভিন্ন দুঃখ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, পুরস্কার পাওয়া আনন্দের হলেও বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন। শ্রমিকদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা, আবাসন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
চা শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, মজুরি বাড়লেও বর্তমান বাজারদরে খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন। অধিকাংশ চা বাগানে মানসম্মত শিক্ষা, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন সুবিধার সংকট এখনো শ্রমিকদের বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে।
এদিকে বাগান মালিক পক্ষের দাবি, উৎপাদন বাড়লেও খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাপের মুখে আছে শিল্পটি। তেলের দাম বৃদ্ধি, সার, কীটনাশক, বিদ্যুৎ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় চা বিক্রি করে খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তারা বলেন, চা উৎপাদন বেড়েছে ঠিক, তবে চা বাগানগুলোর অবস্থা তেমন ভালো যাচ্ছে না। কারণ চা শিল্পে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। হয়তো হাতেগোনা কয়েকটি বাগান ভালো চলছে। তবে বেশিরভাগ বাগানের অবস্থা একই। যতক্ষণ পর্যন্ত চায়ের দাম বৃদ্ধি না পাবে, ততদিন পর্যন্ত এই সমস্যা থেকেই যাবে।
বাংলাদেশ চা বোর্ড ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে শনিবার সকাল ১১টায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলে পায়রা উড়িয়ে ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবস উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এতে সভাপতিত্বে করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
উদ্বোধনী পর্বের পর চা শিল্পবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভা শেষে ৮ ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করে বাংলাদেশ চা বোর্ড।
এবার একরপ্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা বাগান হিসেবে সম্মানা পেয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগান। শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের কর্ণধার, মহসিন টি হোল্ডিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহসিন মিয়া মধুর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন বাগানের ম্যানেজার ফয়সল আহমদ পাভেল।
সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বাগানের স্বীকৃতি পেয়েছে হবিগঞ্জের বাহুবলের মধুপুর চা বাগান। শ্রেষ্ঠ চা রফতারিকারকের পুরস্কার পেয়েছে চট্টগ্রামের দি কনসোলিডেটেড টি এন্ড ল্যান্ডস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী ক্যাটাগরিতে পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার সোনাপাতিলা গ্রামের মো. মতিয়ার রহমান, শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা বাগান ক্যাটাগরিতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর চা বাগান, বৈচিত্র্যময় চা পণ্য বাজারজাতকরণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে ঢাকার কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড, দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন চা মোড়কের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা প্রতিষ্ঠান ঢাকার কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড, শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী (শ্রমিক সম্পর্কিত পুরস্কার) চট্টগ্রাম ফটিকছড়ির নেপচুর চা বাগানের জেসমিন আক্তার এবং শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে পঞ্চগড়ের সুপ্রিম টি লিমিটেড।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, বিএনপির শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, বট লিফ টি মালিক সমিতির সভাপতি নিয়াজ সিদ্দিকী, টি প্লান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ টিট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ মাইনুদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিবি বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল বি এম তৌহিদ হাসান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে চা শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন ও চা শ্রমিক প্রতিনিধিরা আলোচনা সভায় অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা দেশের চা শিল্পের সাফল্য, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, চা শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত জাতের চা উৎপাদন, গবেষণা, উন্নত প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, চা শুধু একটি পানীয় নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, অর্থনীতি এবং লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। চা শিল্পকে আরো আধুনিক, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের নিবন্ধিত চা বাগান এবং অসংখ্য ক্ষুদ্র চা বাগান জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের চা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতারি হচ্ছে, যা দেশের জন্য গর্বের বিষয়।
চা শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘তাদের কঠোর পরিশ্রম ছাড়া এ শিল্প এতদূর এগিয়ে আসতে পারত না। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, উন্নত আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।’
মুজিবুর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল শুধু দেশের চা শিল্পের প্রাণকেন্দ্র নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন অঞ্চল। সবুজ চা বাগান, হাওর, ছড়া, জাতীয় উদ্যান এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মানের চা পর্যটন গড়ে তোলার বড় সুযোগ রয়েছে।’ এজন্য তিনি সরকারের কাছে শ্রীমঙ্গল পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, ‘চা শিল্পের টেকসই উন্নয়ন এবং চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে শ্রমিক, মালিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও সহমর্মিতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।’
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, চা শিল্পের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ চা বোর্ডের সব কার্যক্রম ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা ডিজিটাল করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের চা শিল্পের তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে ‘বাংলাদেশ টি ইন্ডাস্ট্রি’ এবং ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ নামে দুটি মোবাইল অ্যাপস চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও উন্নতমানের বিভিন্ন ক্লোন চা উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চা শিল্পকে আরো বহুমুখী ও রফতারিমুখী করতে জেসমিন চা, গোলাপ চা, লেবু চা, মসলা চা ও চকোলেট চাসহ বিভিন্ন মূল্যসংযোজিত চা উৎপাদনে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে চা উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
অন্যদিকে জাতীয় চা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বিভিন্ন চা বাগানে ঘুরে শ্রমিকদের সাথে আলাপকালে চা শ্রমিক পূর্ণিমা রেলি, জাদব রবিদাস ও অঞ্জু বলেন, বর্তমানে আমরা যে পরিমাণ মজুরি পাই তা যথেষ্ট নয়। এই মজুরিতে ডালভাত খেয়ে বেঁচে থাকা দায়। প্রতি বছর বাড়ানোর কথা থাকলেও তা করা হয় না। বেতন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা সময়মতো দেওয়া হয় না।
ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে চা উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৭০ বছর ধরে। ১৮৩৫ সালে চীন দেশের সীমানার বাইরে সর্বপ্রথম চা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৮৫৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেটের মালিনীছড়া চা বাগানের বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় চা চাষের বিস্তার বাড়তে থাকে। একে একে গড়ে তোলা হয় ১৭২টি চা বাগান। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১০ কোটি ২ লাখ কেজি, ২০২৪ সালে ৯ কোটি ৩০ লাখ কেজি এবং ২০২৫ সালে ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে।
চলতি বছর ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার আগাম বৃষ্টি হয়েছে। ফলে গতবছরের তুলনায় এবার চা উৎপাদন বেশি হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। অর্থাৎ ২০২৩ সালের পর থেকে চা উৎপাদন বাড়ছে। বোর্ড সূত্র আরও জানায়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রতিকেজি চা নিলামের গড় মূল্য ছিল ১৭১ টাকা ২৪ পয়সা, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২০২ টাকা ৪৬ পয়সা এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ২৪৫ টাকা ৫০ পয়সা গড় মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ বিগত ১০ বছরের তুলনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে এবছর বিক্রি হচ্ছে চা।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন, ‘চা শিল্পের অবস্থা গত কছেশ বছরের তুলনায় এখন ভালো আছে। উৎপাদন ভালো হচ্ছে। তবে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি বাড়ছে না। প্রতি বছর মজুরি পাঁচ শতাংশ বাড়ানোর কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না।’
চা বাগান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চা উৎপাদনে যদি ১০০ টাকা খরচ হয়, তাহলে ৮০ টাকা শ্রমিকদেরকে দিতে হচ্ছে। বাকি ২০ টাকা অন্যান্য খাতে ব্যয় হচ্ছে। চা বাগান শিল্পকে কৃষির আওতায় নিলে হয়তো কম লাভে ঋণ পাওয়া যেত। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে চায়ের দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে জানান তারা।
শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের ম্যানেজার ফয়সল আহমদ পাভেল বলেন, ‘এবার একরপ্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা বাগান হিসেবে আমার বাগান সম্মানা পেয়েছে। চা উৎপাদন বেড়েছে ঠিক, তবে চা বাগানগুলোর অবস্থা তেমন ভালো যাচ্ছে না। কারণ চা শিল্পে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। হয়তো হাতেগোনা কয়েকটি বাগান ভালো চলছে। তবে বেশিরভাগ বাগানের অবস্থা একই। যতক্ষণ পর্যন্ত চায়ের দাম বৃদ্ধি না পাবে, ততদিন পর্যন্ত এই সমস্যা থেকেই যাবে। বিশেষ করে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, তেলের দাম বৃদ্ধি ও আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ার পর অনেক চা বাগান চালাতে অনেকেই হিমশিম খাচ্ছে।
তবে গুণগত মান রক্ষা করে চা উৎপাদন বাড়ানো হলে হয়তো বাগান মালিকদের ক্ষতি কম হবে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা) সুমন সিকদার বলেন, ‘এবছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি। গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন বেশি হবে বলে আশা করি।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। চা শিল্পকে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে রক্ষা করা, জলাবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া, যেখানে পানি নেই সেখানে পানি সংগ্রহ করা সবগুলোই হচ্ছে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আরও অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। সবগুলো সমাধান করে শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা করা দরকার আমরা তা করছি।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের স্বীকৃতি চা শিল্পে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, গুণগত মানোন্নয়ন, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং শ্রমিক কল্যাণে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে, যা দেশের চা শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে
কেকে/ এমএস