বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬,
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ঢাকায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর      শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      প্রতিবন্ধী তিন ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী      শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী      চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গেপ্তার      শিল্পখাতে গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর      
দেশজুড়ে
কাপাসিয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ
শরিফ সিকদার, গাজীপুর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় চরদুর্লভ খান আ. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন কলেজের শিক্ষকরা। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্রতি আনাস্থা জানিয়ে ১১জন শিক্ষক-কর্মচারীর স্বাক্ষরিত ও তাদের পক্ষে সিনিয়র শিক্ষক কফিল উদ্দিন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

আবেদনে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র শিক্ষক গোলাম ফারুক, কবির উদ্দিন, শাহিনা বেগম, বোরহান উদ্দিন হোসেন, আলা উদ্দিন, সুফিয়া বেগম, মীরা রানী, সিরাজুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক কবির হোসেন, অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী তাজ উদ্দিন।

অভিযুক্ত মো. নুরুল ইসলাম ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব গোপন রাখা ও সভাপতির অনুমতি ছাড়া তিনটি বড় গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কলেজের পুরো কার্যক্রমে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির নানা অভিযোগ রয়েছে চরদুর্লভ খান আ. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের কোন প্রকার আয় ও ব্যায়ের হিসাব না দেওয়া, বিদ্যালয়ের প্রদত্ত ভাতা না দেওয়া, বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ের ৩টি বড় গাছ বিক্রি করর, ম্যানেজিং কমিটির গঠনের উদ্যোগ না নেওয়া, দায়িত্ব পালনকালীন ম্যানিজিং কমিটি/অ্যাডহক কমিটি গঠন করতে না পারা, বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে কমিটি গঠনের সময় পার করা, যথা সময়ে এনটিআরসি শিক্ষকের জন্য আবেদন না করা, বিদ্যালয়ের আয় হতে শিক্ষক কর্মচারীদের ভাতা প্রদান না করা এবং কোন প্রকার আয় ব্যায় হিসাব উপস্থাপন না করার অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষক-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে উপার্জিত অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তার নিজের কাছেই জমা রােখছেন। পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির অনুমোদন ছাড়া বিদ্যালয়ের তিনটি বড় গাছ বিক্রি করে ওই অর্থ কোথায় ব্যয় করেছেন তা শিক্ষক-কর্মচারীদের জানানো হয়নি। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

কফিল উদ্দিন জানান, মো. নুরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারেননি। প্রায় এক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব শিক্ষক-কর্মচারীদের সামনে উপস্থাপন করেনি। একাধিকবার হিসাব চাওয়া হলেও পরে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আর প্রকাশ করেনি। আমাদের সন্দেহ আছে, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ও টিউশন ফি বাবদ প্রায় ৪-৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে ইচ্ছেমতো খরচ করছেন। চার মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। আমরা এসব অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।

সিনিয়র শিক্ষক গোলাম ফারুক জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে না। অনেকের প্রায় দুই বছরের বেতন বকেয়া রয়েছে। 

তিনি অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টিউশন ফির বণ্টনযোগ্য অংশও শিক্ষক-কর্মচারীদের দেওয়া হয় না।

সহকারী শিক্ষক কবির হোসেন বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়গুলোর সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তারা উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে জ্যেষ্ঠ কোনো শিক্ষককে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়ার দাবি তুলেন।

জানতে চাইলে মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত আছি এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেবেন।’

প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। 

তবে অভিযোগের অন্যান্য বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মো. নুরুল ইসলাম।

হাফিজুল হক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘এর প্রেক্ষিতে আগামী ৬ আগস্ট ম্যানেজিং কমিটির সভা আহ্বান করেছি। সভায় আমি এ বিষয়টি তুলে ধরবো এবং সিদ্ধান্ত নিবে। সভার সিদ্বান্ত মতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  কাপাসিয়া   ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি   স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ   অনিয়মের অভিযোগ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close