কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে শেয়ালের কামড়ে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাঈম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে নাঈমের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে ঢাকায় নেওয়ার পথে নাঈমের মৃত্যু হয়।
নিহত নাঈম বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর নওগা পালপাড়া গ্রামের প্রবাসী মো. সোহেল মিয়ার ছেলে। এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে বিকেল প্রায় ৪টার দিকে নাঈম নিজ বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল। এ সময় হঠাৎ একটি শেয়াল তাকে আক্রমণ করে। শেয়ালটি তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে গুরুতর জখম করে। পরে শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে শেয়ালটিকে তাড়িয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নাঈমকে দ্রুত ভাগলপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন।
কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তবে ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর, গতকাল শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে নাঈমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে আবারও জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে নাঈমের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় মাঝে-মধ্যেই শেয়াল দেখা গেলেও এভাবে মানুষের ওপর হামলার ঘটনা খুবই বিরল। বিশেষ করে একটি শিশুর মৃত্যুতে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি এলাকায় বন্য প্রাণীর বিচরণ রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শিশুটির মা জানান, ছেলেকে বাঁচানোর জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য অজুফা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শেয়ালের কামড়ে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাঈমের মৃত্যু হয়েছে। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
কেকে/ এমএস