পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির কারণে দেশের টিকা কর্মসূচি এবং পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সংগ্রহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
রোববার (২১ জুন) ঢাকার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সরকারের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ায় এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই।
তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকারের গাফিলতির কারণে ২০২৪ সালের টিকাদান কার্যক্রমের একটি পূর্ণাঙ্গ রাউন্ড বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সংগ্রহ না করায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীও সময়মতো কেনা হয়নি।
তিনি বলেন, অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) পদ্ধতির পরিবর্তে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পদ্ধতিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্য খাতে স্বাভাবিক অর্থপ্রবাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে ভ্যাকসিন ও পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সংগ্রহে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয় এবং সংকট তৈরি হয়।
হাম রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, টিকাদান কার্যক্রমের ঘাটতির কারণ সরকার ইতোমধ্যে চিহ্নিত করেছে।
সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। পর্যালোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য খাতে চলমান সংকট নিরসনে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি। ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী বর্তমানে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তরে যাচ্ছেন। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন ও পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হলে শিশুদের মধ্যে হামসহ বিভিন্ন প্রতিরোধযোগ্য রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একইভাবে পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর ঘাটতি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
কেকে/ এমএস