লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে আলিম উদ্দিন (২৬) নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। পরে ওই গৃহবধুর অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) রাতে উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের নাড়িয়ার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক আলিম উদ্দিন উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী এলাকার নাদের হোসেনের ছেলে। তিনি নামুড়ী চন্দ্রপুর সালমান ফারসি নুরানী মাদরাসার শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে সারপুকুর এলাকার এক যুবকের সঙ্গে ওই গৃহবধুর বিয়ে হয়। দুই বছর আগে আলিম উদ্দিন স্থানীয় একটি মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলে তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহারে গৃহবধু অভিযোগ করেন, কয়েক মাস আগে স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে আলিম উদ্দিন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি প্রকাশ করলে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়ায় তিনি এতদিন কাউকে জানাননি। পরে আরও একবার ধর্ষণের অভিযোগও করেন তিনি। বর্তমানে তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
সোমবার দুপুরে স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে আলিম উদ্দিন গৃহবধুর বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষক ও গৃহবধুকে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য দীর্ঘ সময় সালিস বৈঠক হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় পুলিশের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ভুক্তভোগী গৃহবধু আদিতমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, ‘ভুক্তভোগীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
কেকে/ এমএস