মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
খানসামার মাটিতে নতুন স্বপ্ন, চিনাবাদামে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য
খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৬:০২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় কৃষিতে ধীরে ধীরে যোগ হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার নাম—চিনাবাদাম। কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকেরা এখন ঝুঁকছেন এ তৈলবীজ ফসলের দিকে। কৃষি বিভাগের পরিকল্পনা, মাঠপর্যায়ের প্রদর্শনী ও নিয়মিত পরামর্শে বদলে যাচ্ছে উপজেলার কৃষি চিত্র, গড়ে উঠছে নতুন আয়ের উৎস।
 
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে চিনাবাদামের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে স্থাপিত বারি চিনাবাদাম-০৬ জাতের প্রদর্শনী প্লট কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। মাঠে ফসলের অগ্রগতি দেখে অনেক কৃষকই আগামী মৌসুমে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। 
 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খানসামা দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত)-এর আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে তৈল ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কৃষি বিভাগ বলছে, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত জাত ব্যবহারে উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধি করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। 
 
চলতি মৌসুমে উপজেলার কৃষকদের মাঝে বারি চিনাবাদাম-০৬ জাত ছড়িয়ে দিতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে কৃষি বিভাগ। এতে কৃষকদের মধ্যে ফসলটির প্রতি আস্থা ও আগ্রহ দুই-ই বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
 
স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, চিনাবাদাম চাষে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক কমে যায়। এক বিঘা জমিতে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তারা। 
 
আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় গ্রামের কৃষক আবুবক্কর জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ২০ শতক জমিতে বারি চিনাবাদাম-০৬ চাষ করেছেন। তার ভাষায়, সময়মতো নির্দেশনা পাওয়ায় ফসলের অবস্থা ভালো এবং রোগবালাইও কম দেখা গেছে। তিনি আগামী মৌসুমে আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান। 
 
একই গ্রামের কৃষক খাইরুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শের কারণেই তার জমির ফসল ভালো অবস্থায় রয়েছে। তার মতে, সঠিক পরিচর্যা পেলে চিনাবাদাম কৃষকের জন্য লাভজনক একটি বিকল্প ফসল হতে পারে। 
 
এদিকে ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া গ্রামের কৃষাণী মনিজা বেগম জানান, চিনাবাদাম চাষে নারীদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। বিশেষ করে বাদাম তোলা, শুকানো ও বাছাইয়ের কাজে নারীরা যুক্ত হওয়ায় বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। 
 
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে খানসামা উপজেলায় প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, নিয়মিত তদারকি ও কৃষকদের সহায়তা অব্যাহত থাকলে আগামীতে এই আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে। 
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, দেশের ভোজ্যতেলের ঘাটতি পূরণে তৈল ফসলের উৎপাদন বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যেই কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে বারি চিনাবাদাম-০৬ জাতের প্রদর্শনীসহ নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়াতে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। 
 
কৃষি বিভাগের ধারাবাহিক উদ্যোগ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং কৃষকদের আগ্রহ—সব মিলিয়ে খানসামার কৃষিতে এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে চিনাবাদাম অচিরেই এ অঞ্চলের অন্যতম লাভজনক ফসলে পরিণত হবে। 
 
কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close