কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের ৩৮টি পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একইসঙ্গে মহাসড়কটিকে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব পরিবারের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, গত ছয় মাসে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৭১টি দুর্ঘটনায় ৭২ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হয়েছেন। এ পর্যন্ত দুই ধাপে ৯৪টি পরিবারকে মোট ৪ কোটি ৪ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত চকরিয়ার বাসিন্দা আব্দুছ সালাম বলেন, মহাসড়কের সংকীর্ণতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। সড়কটি প্রশস্ত ও পৃথক লেন থাকলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
নিহত ও আহতদের স্বজনদের পাশাপাশি পরিবহন মালিকরাও কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি জানান। তাদের মতে, যানবাহনের তুলনায় সড়কের সক্ষমতা কম হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি মাঝখানে নিরাপত্তা ডিভাইডার স্থাপন এবং তিন চাকার যানবাহনের নিয়ন্ত্রণও জরুরি।
কক্সবাজার জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক এস্তাফিজুর রহমান বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া দুর্ঘটনা কমানো কঠিন। মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত ও অন্যান্য তিন চাকার যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও দুর্ঘটনার বড় কারণ।
কক্সবাজার বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান বলেন, মুখোমুখি সংঘর্ষ কমাতে মহাসড়কটি দ্রুত ছয় লেনে উন্নীত করে নিরাপত্তা ডিভাইডার স্থাপন করা প্রয়োজন।
বিআরটিএ কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, যানবাহনের চাপের তুলনায় মহাসড়কটি সংকীর্ণ হওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারগুলোর সহায়তায় এর আগে ৫৬টি পরিবারকে ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং সর্বশেষ ৩৮টি পরিবারকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, লিফলেট বিতরণ, রোড শো ও চালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, মহাসড়কের পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যাত্রী ওঠানামা এবং ছোট যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সড়ক সম্প্রসারণ ও নিরাপত্তা চিহ্ন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আনোয়ারা থেকে টইটং পর্যন্ত একটি বিকল্প আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের কাজ চলছে, যা চালু হলে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর চাপ কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কেকে/ এমএস