মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
শিরোনাম: যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় থামেনি ইসরাইলের হামলা, বাড়ছে হতাহত      জাতীয় সংসদে পাস হলো অর্থবিল-২০২৬      লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার মানুষ পানিবন্ধি      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু      এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব      ‘যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে’      একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই      
প্রিয় ক্যাম্পাস
হাবিপ্রবিতে চুরির অপবাদ দিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ সিনিয়রের বিরুদ্ধে
নাঈম ইসলাম সংগ্রাম, হাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:৫৪ পিএম

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) চুরির অপবাদ দিয়ে জুনিয়রের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে দুই সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

বিশ্বিবদ্যালয়টির এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী দারুস সালাম রাতুলের কাছ থেকে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আরিফ হাসনাত ও ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের ২৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেফতাউল ইসলাম মেজবাহের বিরুদ্ধে। 

মোবাইল চুরির বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দারুস সালাম রাতুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেই ফেসবুক পোস্টের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ১৪ জুন রাতে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। সেদিন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আরিফ হাসনাত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাতুলের মেসে থাকেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তাদের দুইজনের মোবাইল ফোন হারিয়ে গেছে। পরবর্তী তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এই বিষয়ে দারুস সালাম রাতুল বলেন, ‘১৪ জুন আমার মেসে আরিফ হাসনাত ভাই আসেন। তিনি বলেন যে, হলে তো একটু ঝামেলা চলতেছে রাতে থাকার জায়গা নেই। আমি তোর এখানে থাকবো। তার সাথে যেহেতু আমার ভালো সম্পর্কে তাই আমার রুমমেট না থাকায় তাকে থাকতে দেয়। তিনি শহীদ আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাতে আগেই ঘুমিয়ে যায়। আরিফ ভাই পরে ঘুমান। তিনি আমাকে ঘুম থেকে তুলে বলেন, তার ফোন হারিয়ে গেছে এবং আমাকে আমার ফোন দেখতে বলেন। আমার ফোন হাতিয়ে দেখি আমারও ফোন নেই। তার একটি আইফোন, একটি এন্ড্রয়েড ও আমার রিয়েলমি ৯ মডেলের একটি ফোন হারিয়ে যায়। পরবর্তী দেখি, আমাদের মেসের গেইটে তার আইডি কার্ড, স্টুডেন্ট আইডি কার্ড ও ব্যাংক কার্ড রেখে গেছে। পরে আমরা আমাদের ফোন হারানোর জিডি করি। আমি আমার ফোনের জিডি করি। কিন্তু তিনি শুধু তার আইফোনের জিডি করেন। ভাই বলেন, আইফোন সহজে ট্র্যাক করা যায়। কয়েক দিন পরে এন্ড্রয়েডের জিডি করেছে। আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করি। কিন্তু গলিতে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা না থাকায় সেটি সম্ভব হয় না। পরে জানতে পারি, অনন্যা ভিলা নামের মেসে একই কায়দায় ফোন ছিনতাই হয়। কিন্তু আরিফ ভাই ও মেজবাহ ভাইসহ কয়েকজন মেসে এসে আমাকে নানাভাবে ভয় দেখান।’

রাতুল বলেন, ‘সোমবার (২২ জুন) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আরিফ ভাই আমার বন্ধু সিজানকে ফোন করে বলেন, থানায় ফোন উদ্ধারের বিষয়ে যেতে হবে। আমি ও আমার বন্ধু একসাথে যেতে চাইলে আমার বন্ধুকে উঠতে নিষেধ করে।বলে যে, তোর মেজবাহ ভাইকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে হবে। পরবর্তীতে আমরা দিনাজপুর মেডিকেলের দিকে যায়।সেখানে দেখি মেজবাহ ভাই তার বাইকে সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তার এক বন্ধুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।’

দারুস সালাম রাতুল অভিযোগ করে বলেন, ‘দুই বাইক একসাথে থানার দিকে না এসে মেডিকেল থেকে নির্জন জায়গায় গেল। সেখানে গিয়ে আমাকে নানা প্রশ্ন শুরু করলো। আমার ওপর চুরির দায় চাপিয়ে দিয়ে বলে যে, স্বীকার কর তুই চুরি করেছিস।আমি এ বিষয়ে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে পাইপ দিয়ে পেটায়। মেজবাহ ভাই বলতে থাকেন, আমাকে চিনিস আমি কে? বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি এত কিছু এত সহজে এমনি এমনি পাইনি। আমার নামে মার্ডারের মামলা আছে।আমার সাথে পাঙ্গা নিতে আসলে খবর আছে। নানামুখী জেরার একপর্যায়ে তারা আমার থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন।’

ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘তারা বলেন যে, এই টাকা দিলে মোবাইল চুরির বিষয় নিয়ে আর কোনকিছু হবে না। তুই তোর মতো থাকবি আমরা আমাদের মতো। একপর্যায়ে তারা আমাকে গালিগালাজ করে বলে যে, আমি ফোন চুরি করে নাটক করতেছি। আমাকে দিয়ে বাড়িতেও ফোন করায়। যখন কোনো টাকা দেওয়ার পরিস্থিতিতে থাকি না, তখন আমাকে আবার রাস্তার পাশে এনে স্থানীয় ছেলেদের হাতে দিয়ে বলে এই মোবাইল চুরি করেছে। তখন স্থানীয় ছেলেরা বলে যে, কোনো ডিমান্ড করেছে কি? কোনো ডিমান্ড করে থাকলে দিয়ে দে, আর তুই চলে যা। কোনোভাবেই যখন তারা আমার থেকে টাকা পায় না তখন তারা আমাকে বলে যে, তোকে ছেড়ে দিতে পারি একটা শর্তে। এই ঘটনা ক্যাম্পাসের কেউ যেন না জানে। আমরা এভাবে কয়েকজনকে টার্গেট করেছি। তাদেরকেও শহরে আনবো এবং টাকা নিবো তোকেও কমিশন দেওয়া হবে। আমি তখন নিজেকে নিরাপদ রাখার জন্য তাদের কথায় সুর মিলাই। পরবর্তী আমাকে বাইকে করে ক্যাম্পাসে রেখে যায়। আমি সাথেসাথেই ঘটনাটি আমার বিভাগের সবাইকে জানাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমকেও জানাই। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে যায়। তারা আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যা ম্বুলেন্সে করে দিনাজপুর মেডিকেলে পাঠিয়ে দেন।’

তিনি বিচার দাবি করে বলেন, ‘আমরা অনেক দূর থেকে এখানে পড়তে এসেছি। যদি স্থানীয় ছেলেরা প্রভাব খাটিয়ে আমাদের এভাবে হেনস্তা করে, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? এখনও তারা আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক। প্রশাসনের কাছে আমি সুবিচার প্রত্যাশা করছি। যেন আমার মতো কোনো শিক্ষার্থী এমন হেনস্তার শিকার না হয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইল আরিফ হাসনাত মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি ব্যস্ত আছি। পরে যোগাযোগ করবেন।’

অন্যদিকে, মেফতাউল ইসলাম মেজবাহ বলেন, ‘মোবাইলটা চুরি হয়েছিল ১৪ জুন। তখন তো আমি সেখানে ছিলাম না।পরে তারা থানায় জিডি করে। আরিফ বলতেছিল যে, রাতুলেও ওপর তার সন্দেহ আছে। তাই আমরা তার সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিলাম। পরবর্তী জিডিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ বলেছিলেন, যাকে সন্দেহ করে তাকে যেন নিয়ে আসে। কারণ তার সাথে কথা বললে পুলিশের কাজ করতে কিছুটা সুবিধা হবে। তারা আসতে আসতে পথিমধ্যে সিদ্ধান্ত নেয় তারা থানায় যাবে না এবং আমাকে বলে, আমি যেন তাদের সাথে ক্যাম্পাসে যায়। আমিও তাদের সাথে ক্যাম্পাসে যাওয়ার স্বীকৃতি জানাই।’

তিনি আরও বলেন বলেন, ‘এমনিতেই কথা বলার জন্য আমরা বাইকে করে ৮ নম্বর গেইটের দিকে যায়। সেটা মেডিকেল থেকে সর্বোচ্চ আধ কিলোমিটার দূরে। যেহেতু আরিফ তাকে সন্দেহ করে আসছিল, তাই আমরা তাকে কিছু প্রশ্ন করি। তাকে কোন রকমের শারীরিক আঘাত করা হয়নি।আর আমার বিষয়ে যেটা বলেছে যে, আমি বলেছি মার্ডারের মামলার আসামি আমি, এই কথাটি ভিত্তিহীন।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ এসেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে দুই পক্ষের থেকে ঘটনার বিবরণ শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
 
কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  হাবিপ্রবি   চুরির অপবাদ   মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

প্রিয় ক্যাম্পাস- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close