গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় ছয় বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে তিন মাস ধরে উপুর্যপরি ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসার মুহতামিমকে (প্রধান শিক্ষক) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৭ জুন) কাশিয়ানী থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাওলানা মো. মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে জিন্দারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।
মো. মুস্তাফিজুর রহমান উপজেলার রামদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি উপজেলার সাফলীডাঙ্গা রহিমদিয়া শামসুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার ছাত্রী। বিবাদী মুস্তাফিজুর রহমান প্রায় তিন মাস ধরে ক্লাস মধ্যবর্তী টিফিনের সময়ে বিস্কুট ও চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে তার কার্যালয়ে নিয়ে যেতেন। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক শিশুটির ওপর দফায় দফায় পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালিয়ে আসছিলেন।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে মুস্তাফিজুর রহমান শিশুটিকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন তিনি। পরবর্তী শিশুটি শারীরিকভাবে তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়লে পুরো ঘটনাটি পরিবারের কাছে প্রকাশ করে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে শনিবার কাশিয়ানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২৫)-এর ৯ (১) ধারায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর-২৪।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান খোলা কাগজকে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। আজই তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি ও ডাক্তারি পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
কেকে/এমএ