মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
শিরোনাম: যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় থামেনি ইসরাইলের হামলা, বাড়ছে হতাহত      জাতীয় সংসদে পাস হলো অর্থবিল-২০২৬      লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার মানুষ পানিবন্ধি      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু      এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব      ‘যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে’      একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই      
খোলাকাগজ স্পেশাল
নামে-বেনামে গুজব ছড়াচ্ছে আ.লীগ
রোকন উদ্দিন
প্রকাশ: রোববার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১০:৩২ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

রাজধানীর তুরাগ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিখোঁজ এবং হত্যার অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিভিন্ন পেজ ও প্রোফাইল থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা বা গুজবও ছড়ানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গবেষণামূলক অনুসন্ধানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে ঘটনাটি মিথ্যা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্যও সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর তুরাগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’র অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহল থেকে বিচার দাবি করা হয়। সাবেক সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও এ ঘটনার বিচার দাবি করে বক্তব্য দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ অভিযোগের বিচার চেয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে অভিনব প্রতিবাদও শুরু হয়েছে। তবে এসব দাবির বিপরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা অভিযোগও দেখা যাচ্ছে। সেখানে বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো ইস্যুকেও ‘আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর গণহত্যা’ হিসেবে প্রচার করা হতে পারে এবং এটি কোনো কোনো মহলের পূর্বপরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা বা গুজব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু তুরাগের ঘটনা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তাই সুনির্দিষ্ট ও স্বাধীন তদন্ত ছাড়া ইন্টারনেট বা ফেসবুকে প্রচার পাওয়া খবরগুলোকে যাচাই না করে বিশ্বাস করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও মূলধারার নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের খবরের ওপর আস্থা রাখা উচিত।

আওয়ামী নেতাকর্মীদের অভিযোগ: রাজধানীর তুরাগ এলাকায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং হত্যার অভিযোগ তুলেছেন দলটির নেতারা। সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে দলের সাতজন নেতাকর্মী নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে তুরাগ নদী থেকে তাদের মধ্যে তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচি দমনে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও হামলার অভিযোগ তোলেন তিনি। মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে। শুধু রাজপথেই নয়, কারাগারেও পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

একই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। এক বার্তায় মহিবুল হাসান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে একে ‘তারেক রহমানের বিএনপি সরকারের’ দমন-পীড়ন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘তুরাগ নদী আজ ছাত্রলীগের কর্মীদের রক্তে রঞ্জিত। কিন্তু দেশের সংবাদমাধ্যম এবং সুশীল সমাজ এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এখনো নীরব।’

তুরাগ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতি দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তুরাগ নদীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের নৃশংসভাবে হত্যার পর সেই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করছে বর্তমান সরকার। গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের হত্যাকাণ্ডের তথ্য গোপন করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা।

অনলাইনে তৎপর নেতাকর্মী ও সমর্থকরা: তুরাগ নদী থেকে তিন ছাত্রলীগ কর্মীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার এবং এর বিচার দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেজ ও প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে অভিনব প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং দলটির সমর্থকরা নামে-বেনামে পেজ খুলে এবং ফটোকার্ড বানিয়ে নানা গুজব ছড়াচ্ছেন। ফেসবুকে দাবি করা হচ্ছে, সম্প্রতি (২২ জুন) ঢাকার তুরাগ নদী থেকে তিন, মতান্তরে চারজন ছাত্রলীগ কর্মীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কারও পোস্টে দেখা যায়, ‘তুরাগ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তাই জনসাধারণের বিক্ষোভ সমাবেশ। এর বিচার একদিন বাংলার মাটিতে হবে, ইনশাআল্লাহ। আমার ভাই মরল কেন? প্রশাসন জবাব চাই।’ কেউ পোস্ট করেছেন, ‘যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রক্তে রঞ্জিত তুরাগ নদীর পানি...’।

তবে গবেষণামূলক অনুসন্ধানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং দলটির প্রতি অনুগত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের এই দাবির পক্ষে ‘প্রমাণ হিসেবে’ ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, অন্তত ৮ অথবা ৯ জনের নিথর দেহ একটি জলাশয়ের (নদী অথবা বিল) পাড়ে পড়ে আছে। পাশে ইউনিফর্ম পরা একজন ব্যক্তিকেও দেখা যাচ্ছে। দ্য ডিসেন্ট এখনো ভিডিওটির মূল উৎস শনাক্ত করতে পারেনি। তবে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ বা ৪ জনের ‘অর্ধগলিত লাশ’-এর যে বিবরণ প্রচার করা হচ্ছে, সেটির সঙ্গে আলোচ্য ভিডিওর মিল নেই। ফলে ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার বলে প্রতীয়মান হয়। পুলিশ ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা তুরাগ নদী থেকে সুমন নামে একজনের লাশ উদ্ধার করেছে, যাকে ছাত্রলীগ তাদের কর্মী বলে দাবি করে বলছে, তিনি ২২ জুনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন। যদিও পুলিশ সুমনের পরিবারের বরাতে দাবি করেছে, তিনি পিকনিকে গিয়ে ট্রলার থেকে পড়ে মারা গিয়ে থাকতে পারেন। সুমনের বাইরে অন্য কারও ‘অর্ধগলিত লাশ’-এর সন্ধান ওই এলাকায় পাওয়ার কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া খবর ভিত্তিহীন

তুরাগ নদীতে ভাসছে ‘আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ’—শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দপ্তরটির মিডিয়া বিভাগ থেকে এ কথা জানানো হয়। তারা জানিয়েছেন, ‘তুরাগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ ভাসছে’—এমন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ অনুরোধ জানিয়েছে।

এদিকে ভারতে প্রকাশ্যে এক নারীকে অপহরণ বা তুলে নিয়ে যাওয়ার পুরোনো একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এ ঘটনাকে সরকারি দল বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের নামে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাফ্যাক্ট জানায়, ‘দিন-দুপুরে এক নারীকে অপহরণ করলেন কক্সবাজারের যুবদল নেতা’—এমন দাবি করে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত ভারতের গুজরাটের ভাদগাম গ্রামের ঘটনা, যেখানে গত ২২ জুন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে তাঁর লিভ-ইন সঙ্গীর বাড়ি থেকে তরুণীর বাবা ও অন্য তিন ব্যক্তি মিলে তুলে নিয়ে যান।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশ ও প্রবাস থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও নবনির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:   গুজব   আ.লীগ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close