গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের দিঘীরপাড় এলাকায় বসতবাড়িতে অবৈধ প্রবেশ, ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি এবং হয়রানিমূলক মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কাপাসিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) উপজেলার টোক ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের বাসিন্দা মোছা. রোকেয়া বেগম (৪৬) কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে একই গ্রামের গোলাপ মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. পরিনা বেগম (৪৫) ও তার সহযোগীরা গত বুধবার (২৫ জুন) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে তার বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা বাড়িতে ঢুকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্মাণাধীন ঘরের দেয়াল, মূল গেট, পিলার ও টিনের বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের মারধরের চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে টোক নয়ন বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্রও ধারণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমি বর্তমানে খাগড়াছড়ির রামগড় ব্যাটালিয়নে কর্মরত রয়েছি। গত শুক্রবার (৬ জুন) সরকারি ছুটিতে বাড়িতে আসি। প্রতিবেশী এবং খালা-সম্পর্কীয় পরিনা বেগম, যিনি গোলাপ মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে আছেন। দেশের সীমান্তে দায়িত্ব পালন করলেও নিজ পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আজ উদ্বিগ্ন হতে হচ্ছে। আমার অনুপস্থিতির সুযোগে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর অভিযুক্তরা পুনরায় তাদের পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে টোক নয়ন বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল খালেক বলেন, “আমরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, পরিনা নামে এক ব্যক্তি পিলার ভেঙে ফেলেছেন এবং রাস্তার ইট তুলে ফেলেছেন। আমরা ঘটনাস্থলে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলে আসি।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোছা. পরিনা বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কেকে/এলএ