কালিয়া উপজেলার বারইপাড়া এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। তিনি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সঙ্গে নির্মাণকাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
শনিবার (২৭ জুন) নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ পরিদর্শন করেন জাহাঙ্গাীর আলম।
এ সময় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এ সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি নড়াইল ও কালিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতীক। জনগণ অনেক অপেক্ষা করেছে।’
তিনি নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মানের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘যেসব রডে মরিচা ধরেছে, সেগুলো প্রকৌশলগত মান অনুযায়ী পরিষ্কার করার পরই ঢালাই করতে হবে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। কাজের গতি বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিটি ধাপে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না।’
প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মাধব বিশ্বাস জানান, সেতুর যেসব রডে মরিচা দেখা গেছে, সেগুলো যথাযথভাবে পরিষ্কার করার পরই কংক্রিট ঢালাই করা হবে।
পৌরসভা বিএনপির সভাপতি শেখ সেলিম হোসেন বলেন, ‘সংসদ সদস্যের এই আকস্মিক পরিদর্শন ও কঠোর নির্দেশনার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বারইপাড়া সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হবে বলে আশা রাখি এবং এলাকার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।’
সড়ক বিভাগ সূত্রে যানা যায়, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নড়াইল-কালিয়া সড়কের ২১তম কিলোমিটারে বারইপাড়া এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মেসার্স জামিল ইকবাল অ্যান্ড মঈনুদ্দিন বাঁশী কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। ২০১৯ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় পরবর্তী অবশিষ্ট কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজি লিমিটেডকে। এসবের মাঝে বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুর একটি পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ নবগঙ্গা নদীকে ‘সি’ থেকে পরিবর্তন করে ‘বি’ গ্রেডের নদী হিসেবে প্রতিবেদন দেয়৷ ফলে সেতুর নকশা পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে। এসব কারণে ৬৫ কোটি টাকার সেতুর ব্যয় গিয়ে দাঁড়ায় ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বারইপাড়া সেতুর প্রায় ৯৫ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে আগামী দেড় মাসের মধ্যে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।’
পরিদর্শনকালে কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইদ্রিস আলীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এমএ