নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় জাল কানাডিয়ান ডলার, থাই লটারি কার্ড ও প্রতারণার বিভিন্ন সরঞ্জামসহ সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
শনিবার (২৮ জুন) জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মতলুবর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. জাহাঙ্গীর আলম (১৯), মো. নুরুন্নবী ইসলাম ওরফে পঁচা (৩২), মো. লাবু ইসলাম (২০), মো. মামুন ইসলাম (১৯) এবং মো. সজিব মিয়া (২০)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের কাঠগারী পণ্ডিতপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বাড়িতে অনলাইনে ভিডিও কলের মাধ্যমে জাল কানাডিয়ান ডলার প্রদর্শন করে বিদেশে ভিসা ও থাই লটারি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দেশ-বিদেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
তল্লাশিতে আটককৃতদের কাছ থেকে দুই বান্ডিল জাল কানাডিয়ান ডলার (মোট ২০২টি নোট), ১৬০টি অনলাইন লটারি কার্ড, একটি লেনোভো ল্যাপটপ, একটি এপসন প্রিন্টার, একটি লেমিনেটিং মেশিন ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, জব্দ করা মোবাইল ফোন পর্যালোচনায় একাধিক ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণার আলামত পাওয়া গেছে। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও কল, ভয়েস মেসেজ ও বিভিন্ন বার্তার মাধ্যমে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি এবং দেশের সাধারণ মানুষকে লটারি জেতা, কানাডিয়ান ডলার ও ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হতো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, তারা জাল কানাডিয়ান ভিসা, জাল পাসপোর্ট, জাল মুদ্রা এবং অন্যান্য নথি তৈরি করে বিভিন্ন প্রতারক চক্রের কাছে সরবরাহ করতেন।
প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা অর্থের একটি অংশ অনলাইন ক্যাসিনো ও অন্যান্য জুয়ার কাজে ব্যয় করা হতো বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানায় পেনাল কোডের ৪৮৯-খ, ৪৮৯-গ ও ৩৪ ধারাসহ বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এবং সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
কেকে/এমএ