উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানিও বিপদসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে জেলার নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র ৬ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও ঊর্ধ্বমুখী। যদিও সেগুলো এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগামী তিন থেকে চার দিন পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের কাঁচা সড়ক তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি পাট, বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির ক্ষেত পানিতে ডুবে গিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির রহমান জানান, জেলার নয়টি উপজেলার পানিবন্দি মানুষের জন্য ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২৭৫ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কেকে/ এমএম