পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলায় ঋণ বিতরণকে কেন্দ্র করে ঋণগ্রহীতা ও এনজিও কর্মীর মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যা ছয়টার এনজিও ‘সংগ্রাম’-এর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন ঋণগ্রহীতার ভাই এছাহাক হাওলাদার ও ‘সংগ্রাম’-এর অফিসের ফিল্ড কর্মী মো. রাসেল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টার সংগ্রাম এনজিওর গ্রাহক মফিজ হাওলাদারকে দেড় লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা। তিনি সকাল ১১টা থেকে অফিসে বসে থাকেন। দুপুর দুইটা পার হলেও কোন গুরুত্ব না দেওয়ায় ঋণগ্রহীতা ও এনজিও কর্মীর দুইজনের সাথে কথা কাটাকাটি করে উত্তেজিত হয়। পরে সংগ্রাম অফিসের কর্মীরা মফিজ হাওলাদারকে একটি রুমে আটকিয়ে রাখে। রুমে আটক অবস্থায় তার ভাই এছাহাককে বাঁচানোর জন্য খবর দিলে তিনি এসে আটকের বিষয় জানতে চাইলে ম্যানেজারের সাথে হাতাহাতি পরে মারামারি হয়। এতে করে ঋণগ্রহীতার ভাই এছাহাক ও সংগ্রাম এনজিও অফিসের ফিল্ড কর্মী রাসেল গুরুতর আহত হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে অফিসের ম্যানেজার ৯৯৯-এ ফোন করলে দশমিনা থানা পুলিশ গিয়ে পরিবেশ শান্ত করে। পরে আহতদের দশমিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উভয়কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শে-রে-ই বাংলা হাসপাতালে পাঠান।
সংগ্রাম এনজিও অফিসের ম্যানেজার কামরুল ইসলাম জানান, ঋণগ্রহীতা মফিজ সকালেই অফিসে আসে। আমি দুপুর ১২টার সময় বলি, জুন ক্লোজিং মাস একটু সময় হবে হিসাবরক্ষক সাহেব ব্যাংকে টাকা আনতে গেছে, আসতে সময় হবে। এই কথা বলায় উনি আমার ওপর রেগে যায়। পরে কয়েকজন অপরিচিত লোক নিয়ে অফিসে এসে আমার ফিল্ড কর্মীকে মারধর করে। মফিজ মোবাইল ফোন নিক্ষেপ করে কর্মীর মুখ ফেটে গুরুতর আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ৯৯৯-এ ফোন করলে দশমিনা থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে আহত ফিল্ড কর্মী রাসেল হোসেনকে দশমিনা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শে-রে-ই বাংলা হাসপাতালে পাঠান। ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষেকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।
ঋণগ্রহীতা মফিজ হাওলাদার জানান, আমি সংগ্রাম এনজিও অফিসের একজন নিয়মিত সদস্য। আজ সকাল ১১টার সময় ফিল্ড অফিসার অফিসে আসতে বলে। আমি সকাল ১১টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত বসে থাকি। ম্যানেজারকে বিষয়টি বললে আমাকে ধমক দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। কথা কাটাকাটি হলে তার সহকর্মীরা আমাকে একটি রুমের মধ্যে আটকে রাখে। পরে আমি আমার ভাইকে খবর দিয়ে বাঁচানোর জন্য বলি। তিনি এসে আমাকে রুম থেকে বের করে। ফিল্ড কর্মী আমার ভাই এছাহাক হাওলাদারের সাথে কথার কাটাকাটি পরে মারধর করে। আমার ভাই আহত হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শে-রে-ই বাংলা হাসপাতালে পাঠান।
দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ