গজারিয়ায় প্রতিবেশী এক যুবকের ধর্ষণে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম আসায় বিষয়টি ধর্ষণ নাকি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র বিচারের আশ্বাস দিয়ে কিশোরীর গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।
উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের পৈক্ষারপাড় নয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা অত্যন্ত দরিদ্র এবং মানসিকভাবে অসুস্থ। তার মা স্থানীয় এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে মায়ের মৃত্যুর পর প্রতিবেশী মহিউদ্দিনের ছেলে সাজিদের সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন এবং মা বেঁচে না থাকার সুযোগ নিয়ে সাজিদ একদিন মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সে বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। একপর্যায়ে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরীটি জানায়, সে প্রায় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। ভুক্তভোগী পরিবারটি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় কতিপয় মাতব্বর ও প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের বাধা দেন। তারা আদালতের বাইরে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিচার ও ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তকে বাঁচাতে এবং ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ওই প্রভাবশালী মহলটি কৌশলে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীটির জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগীর বড় ভাই বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে সাজিদ জড়িত। তবে সে নিজেকে বাঁচাতে তার কয়েকজন বন্ধুর নাম জড়িয়ে বিষয়টিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় মাতব্বরেরা আমাদের বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় এবং আইনি পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করায় এতদিন আমরা কিছু করিনি। কিন্তু তাদের ওপর আস্থা রাখতে না পেরে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাজিদের বক্তব্য জানতে তার বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার বিকেল থেকেই সে আত্মগোপনে রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি নিজে ফোন রিসিভ না করে তার স্ত্রীকে দিয়ে কথা বলান।
বিষয়টি সম্পর্কে ভবেরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাদত আলী বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমেই প্রথম শুনলাম। আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। ভুক্তভোগী পরিবার যদি আমাদের কাছে আসে, তবে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, “গত রাতে ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।”
কেকে/এলএ