মাত্র ১০০ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যবসায়ীকে দোকানে ঢুকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত লেবু মিয়া জেলা যুবদলের সাবেক যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধানের খণ্ডকালীন গাড়িচালক ছিলেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার কলেজ মোড় এলাকার ‘তানভীর অটো ভলকানাইজিং পার্টস’ দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয় এবং এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চারজনকে আসামি করে পাটগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হামলায় গুরুতর আহত দোকান মালিক আমিনুর রহমানকে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, এমপির খণ্ডকালীন গাড়িচালক ও যুবদল নেতা লেবু মিয়ার এক কর্মচারী ওই দোকানে গাড়ি মেরামত করতে যান। এ সময় মাত্র ১০০ টাকা বকেয়া নিয়ে দোকান মালিক আমিনুর রহমানের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা লেবু মিয়া ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ক্ষিপ্ত অবস্থায় দোকানে প্রবেশ করেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমিনুর রহমানের ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত যুবদল নেতা লেবু মিয়া দাবি করেন, ‘আমি টাকা দিতে গেলে উল্টো আমার ওপরই হামলা করা হয়েছে। সামান্য একটি ঘটনাকে বড় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি আমার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে মারধরের চেষ্টা করা হয়।’
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, ‘ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটির ভিত্তিতে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
কেকে/এলএ