কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে টানা অতিভারী বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে ক্যাম্প-৫-এর একটি মহিলা হেফজখানায় পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রথমে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও, পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত আরও ছয়জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ নিয়ে গত তিন দিনে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মোট ১৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু হলো। এর আগে গত সোমবার পৃথক তিনটি পাহাড়ধসে আটজন নিহত হয়েছিলেন।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে উখিয়ার ইরানি পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর এ-৩ ব্লকে অবস্থিত খতিজাতুল মহিলা হেফজখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। টানা বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে পাহাড়ের মাটি ধসে হেফজখানার একটি দেয়াল ভেঙে পড়ে।
তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৪ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়ায়। আহত ছয় শিশুকে ক্যাম্প-৩-এর জিকে হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল এবং ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত সোমবার (৬ জুলাই) ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী, ১১ নম্বর বালুখালী ও ৭ নম্বর কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। ফলে তিন দিনের ব্যবধানে পাহাড়ধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে।
৮ এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে এপিবিএন ও ক্যাম্প ভলান্টিয়াররা কাজ করছেন।’
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। নতুন করে প্রাণহানি এড়াতে সবাইকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই দিন কক্সবাজার অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নতুন করে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেকে/ এমএস