কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে বন্যার পানিতে নৌকা ডুবে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা (১৩) নামে কিশোরী মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার দুই বোনকে মুমূর্ষু অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের রসুলাবাদে এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল এবং স্থানীয়দের সহায়তায় তিন ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা রসুলাবাদের আবদুল মালেকের কন্যা।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আবদুল মালেক তার স্ত্রী লাকি আক্তার (৩১) এবং মেয়ে হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা (১৩), জেরিন মনি (৯) ও শাওরিন মনিকে (৭) নিয়ে ডিঙি নৌকা যোগে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছিল। এ সময় ঝড়ো বাতাসের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়।
ঘটনার পর আবদুল মালেক ও লাকি আক্তার, কন্যা জেরিন মনি ও শাওরিন মনিকে নিয়ে কোন রকম সাঁতরে উঠতে পারলেও ঝর্ণা পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের তিন ঘণ্টা পর ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। এরই আগে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক জেরিন ও শাওরিনকে উদ্ধার করলে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় এবং বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন। পরে নিখোঁজ ঝর্ণার সন্ধানে প্রশাসনের সহযোগিতায় উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে তাকেও উদ্ধার করেন।
আবদুল মালেক বলেন, ‘বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ নৌকা নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে বেরিয়েছিলাম। স্ত্রীসহ সাঁতারে উঠতে পারলেও সন্তানরা দুর্ঘটনার সময় ভেসে যায়।’
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান জানান, বন্যার পানিতে পারাপারের সময় প্রবল স্রোতের কারণে নৌকাটি ডুবে যায়। প্রশাসনের সহায়তায় নিখোঁজ কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা দিদারুল হক বলেন, বন্যার পানিতে নৌকা ডুবে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে চট্টগ্রাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। দুপুর ২টার দিকে ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দল আনা হয়। নিখোঁজ কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
কেকে/এমএ