রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬,
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা      ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত পাঁচ      ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত      রাতের মধ্যে চট্টগ্রামসহ ১৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু      দেশে ২৫ হজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী      জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
খোলা কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি
অভিযুক্তের ঘনিষ্ঠরাই কমিটির হর্তাকর্তা
তানজেরুল ইসলাম
প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ধুমঘাট ফরেস্ট চেকস্টেশনে বহুমুখী দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিভাগটির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ হোছাইন। গত ৫ জুলাই দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকায়  ‘ধুমঘাট ফরেস্ট স্টেশন ঘুষের টোল প্লাজা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এ নির্দেশনা দেন তিনি। অথচ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বিভাগটির সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মাহদী হাসানকে ধুমঘাট স্টেশনে দুর্নীতি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও বিভাগটিতে খান মো. আবরারুর রহমান নামে একজন সহকারী বনসংরক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। এমন অনিয়মের ফলে তদন্ত শুরু হওয়ার আগে তদন্ত কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশকর্মী ও পরিবেশ সচেতন মহল।

ধুমঘাট স্টেশন অফিসার মো. শামীম রেজার দুর্নীতি চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন আরিফ খান নামে একজন পরিবেশকর্মী। ডেপুটি রেঞ্জার মো. শামীম রেজা কুতুবদিয়া ও হাসনাবাদ রেঞ্জ অফিসারের দায়িত্বে থাকাকালীন সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তদন্তের জন্য পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. মাহদী হাসানের পরিবর্তে অন্য কাউকে তদন্তের নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ আছে কি না। যেহেতু তিনি নিজেই অভিযুক্ত এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোছাইন বলেন, ‘জনবল সংকট হওয়ার কারণে অন্য কাউকে আপাতত দেওয়া যাচ্ছে না।’ 

একই বিভাগের কর্মকর্তা দিয়ে তদন্ত করালে তদন্ত কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এক্ষেত্রে বন সংরক্ষকের সহযোগিতা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি করার সুযোগ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘এমন প্রস্তাব বন সংরক্ষককে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বন সংরক্ষক চাইলে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।’ 

পরিবেশবাদী সামাজিক সংগঠন সবুজ আন্দোলন’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার বলেন, দুর্নীতি তদন্তের ঘটনায় এমন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে যাতে তদন্তে দুর্নীতি না হয়। দেখা যাচ্ছে বনে যেই বিভাগে দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে সেই বিভাগের কোনো কর্মকর্তা তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এতে তদন্ত নিরপেক্ষ না হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দুর্নীতি তদন্ত করতে গিয়ে পুনরায় দুর্নীতি হলে বন বিভাগের প্রতি এদেশের মানুষের আস্থা হারাবে। স্থানীয় বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিকে তদন্ত কমিটিতে রাখা যেতে পারে। 

তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের দুর্নীতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হচ্ছে। অথচ কর্তৃপক্ষ এসব দুর্নীতি তদন্তের ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। আইনের শাষন প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় দুর্নীতিবাজরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠবে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্য নিরপেক্ষ তদন্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে তবে। প্রকাশিত সংবাদ মিথ্যা হলে সেই গণমাধ্যমকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলেও তিনি জানান। 

বন বিভাগের দুর্নীতি তদন্তে দুর্নীতি এবং অনিয়ম প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় সদস্য হাসান ইউসুফ খান বলেন, যখন কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, তখন প্রত্যাশা থাকে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের। কিন্তু দেখা যায়, অভিযোগের মুখে থাকা সেই কর্মকর্তাকেই তদন্ত বা তদন্তসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব দেওয়া হয়। এটি তদন্ত ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। এমন তদন্ত সত্য উৎঘাটনের জন্য নয়, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগের তদন্ত অবশ্যই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হওয়া উচিত। 

তিনি আরও বলেন, আইনের প্রয়োগ দুর্বল হলে অপরাধীরা দায়মুক্তির সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের অপতৎপরতা অব্যাহত রাখবে। গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো গুজব নয়। এগুলো তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও পেশাদার সাংবাদিকতার ভিত্তিতে প্রস্তুত হয়। এসব প্রতিবেদনকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ উচিত বলেও তিনি জানানা। 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে ধুমঘাট ফরেস্ট চেকস্টেশনে দুর্নীতির তদন্ত আবেদন সূত্রে জানা গেছে, স্টেশনটির অফিসার পদে পদায়ন পেতে চাইলে সর্বোচ্চ ঘুষদাতা হতে হবে। ঘুষ দিয়ে গত কয়েকমাস আগে স্টেশনটির স্টেশন অফিসার পদে পদায়ন পান ডেপুটি রেঞ্জার মো. শামীম রেজা। কাঠ পরিবহনের ট্রানজিট পাশ (টিপি) থাকার পরেও প্রতিটি পরিবহনকে ধুমঘাট স্টেশনে ঘুষ দিতে হয়। টিপি প্রতি প্রতিটি ট্রাকচালককে বাধ্যতামূলক ঘুষ দিতে হয় ৬৮০০ টাকা। টিপি ছাড়া অবৈধভাবে কাঠ পাচার প্রতিটি ট্রাকচালককে ঘুষ দিতে হয় ৬-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। 

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, অহরহ এ স্টেশনটি ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করে বনের কাঠ পাচার করা হচ্ছে। স্টেশনটির অদূরে বারইয়ারহাটে ৯টি ও শান্তিরহাটে অবস্থিত ৪টি করাতকল রয়েছে। প্রতিটি করাতকল মালিককে ঘুমঘাট স্টেশন অফিসারকে প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয়। আসবাবপত্র পরিবহনের জন্য পরিবহন সার্ভিসগুলোকে প্রতিমাসে এক লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয় ধুমঘাট স্টেশন অফিসারকে। 

এ ছাড়া প্রতিটি বালুবাহী ট্রাকচালককে ধুমঘাট স্টেশন অফিসারকে ট্রাকপ্রতি ঘুষ দিতে হয় ১৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত। বারইয়ারহাটে অবস্থিত তিনটি বাঁশের ডিপো থেকে প্রতিমাসে দেড় লাখ ঘুষের টাকা ঢুকছে স্টেশন অফিসার মো. শামীম রেজার পকেটে। প্রতিটি টিপি থেকে আদায় করা ঘুষের টাকা ভাগবাটোয়ারায় চট্টগ্রাম উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার পকেটে ৩০০ টাকা, বিভাগীয় দপ্তরের স্টাফরা ৫০ টাকা, সহকারী বন সংরক্ষক ২০০ টাকা, চট্টগ্রাম বন সংরক্ষকের দপ্তরে মাসে এক লাখ টাকা এবং প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তরে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ঘুষের টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। 

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  সংবাদ প্রকাশ   তদন্ত কমিটি   হর্তাকর্তা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close