নীলফামারীর সদর উপজেলার টুপামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সায়ফুল ইসলাম মানিকের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষিকা ফারহানা সুলতানা। জিডিতে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের আশঙ্কা ও হুমকির অভিযোগ করা হয়েছে। তবে, সহকারী শিক্ষক সায়ফুল ইসলাম মানিক প্রধান শিক্ষিকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত ২৯ জুন নীলফামারী সদর থানায় জিডি করেন প্রধান শিক্ষিকা (জিডি নম্বর-১৫৬০)। জিডিতে অভিযোগ করা হয়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন এবং কর্তৃপক্ষকে অবগত না করে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে আলোচনা চলাকালে সহকারী শিক্ষক সায়ফুল ইসলাম মানিক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এ সময় তিনি প্রধান শিক্ষিকাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন। উপস্থিত অন্যান্য সহকারী শিক্ষক এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
ফারহানা সুলতানার দাবি, সহকারী শিক্ষক মানিক তাকে দেখে নেওয়া এবং বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এতে করে একজন নারী হিসেবে তিনি ভয়ের মধ্যে আছেন। ভবিষ্যতে মারধরসহ বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন। এ কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি জিডি করেছেন।
এ বিষয়ে সায়ফুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকি। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অনেক সময় আমাকে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের খেলাধুলার অনুশীলনসহ অন্যান্য কাজে অংশগ্রহণ করতে হয়। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে আমি মতামত দিয়েছি, কোন বাকবিতণ্ডা হয়নি। তবে প্রধান শিক্ষিকা একটি সরকারি দপ্তরের চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারীকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদ দিতে চাইলে আমি সেটির দ্বিমত পোষণ করেছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আমার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন বলে শুনেছি।’
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জছিজুল আলম মণ্ডল বলেন, ‘জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে আমি বিষযটি তদন্ত করে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রতিবেদন দাখিল করেছি।’
তবে তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
কেকে/এমএ