বিশ্বকাপের মঞ্চে বয়স যেন লিওনেল মেসির কাছে কেবল একটি সংখ্যা। ৩৯ বছর বয়সেও ম্যাচের পর ম্যাচ নিজের জাদুকরী ফুটবলে মুগ্ধ করে চলেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে সমানতালে লড়াই চললেও সেমিফাইনালের পর সেই প্রতিযোগিতায় এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করেছেন মেসি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের নেপথ্য নায়ক ছিলেন অধিনায়ক মেসি। ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ঠিক তখনই নিজের অসাধারণ সৃজনশীলতায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজকে দিয়ে সমতাসূচক গোল করান, এরপর যোগ করা সময়ে তার নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ। ২-১ গোলের এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল।
সেমিফাইনালের আগে মেসি ও এমবাপ্পে—দুজনেরই গোল ছিল আটটি করে। শেষ চারের ম্যাচে কেউই গোল করতে না পারলেও ফিফার গোল্ডেন বুটের নিয়ম অনুযায়ী, গোলসংখ্যা সমান হলে বিবেচনায় নেওয়া হয় অ্যাসিস্ট। আর সেখানেই ব্যবধান গড়ে দেন মেসি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা দুটি অ্যাসিস্টের সুবাদে চলতি বিশ্বকাপে তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটিতে, যা তাকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে একক নেতৃত্ব এনে দিয়েছে।
শুধু গোল্ডেন বুটের লড়াই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসেও একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নিচ্ছেন মেসি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১২টি অ্যাসিস্টের মালিক এখন তিনি। পাশাপাশি টানা ১৩টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল অথবা অ্যাসিস্ট করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন, যা আধুনিক ফুটবলের অন্যতম অনন্য রেকর্ড।
তবে গোল্ডেন বুটের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স। সেখানে এমবাপ্পের সামনে গোলসংখ্যা বাড়ানোর শেষ সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে রোববার নিউ জার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা। শিরোপার পাশাপাশি গোল্ডেন বুট জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন মেসি।
বিশ্বকাপ ট্রফি ও গোল্ডেন বুট—দুটি শিরোপাই যদি শেষ পর্যন্ত নিজের করে নিতে পারেন, তবে দুই দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত এক অবিস্মরণীয় ক্যারিয়ারে যুক্ত হবে আরেকটি গৌরবময় অধ্যায়। এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা, বিশ্বকাপের ফাইনালে আরেকটি মেসি-ম্যাজিক দেখার।
কেকে/ এমএস