এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে একটি মৃত গরু ভাসতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় নদীর পরিবেশ, পানির গুণগত মান এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ চৌমুহনী এলাকায় নদীর মাঝস্রোতে মৃত গরুটি ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশাল আকৃতির গরুটি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। তবে কে বা কারা, কিংবা কোনো এলাকা থেকে মৃত পশুটি নদীতে ফেলেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, কিছু অসচেতন ব্যক্তি নদীতে মৃত প্রাণী ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলায় হালদার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এভাবে নদীতে মৃত প্রাণী ফেলে দেওয়ার ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণী ও মাছের প্রাকৃতিক প্রজননও ব্যাহত হতে পারে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও হালদা গবেষক প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, হালদা নদী রুইজাতীয় মাছের বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র। নদীতে মৃত প্রাণী বা যেকোনো ধরনের বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়, যা মাছের বিচরণ, প্রজনন এবং পুরো নদীর বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হালদা নদী রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ও অসচেতন ব্যক্তি সুযোগ বুঝে নদীতে মৃত পশু ও বর্জ্য ফেলছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
ফটিকছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর দুটি টিম ঘটনাস্থল শনাক্তের চেষ্টা করছে। মৃত গরুটির অবস্থান নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত উদ্ধার করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/ এমএস