গ্যাস সংকট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কার্যকর ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের ৭ দফা দাবিতে নওগাঁয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের নিকট এ স্মারকলিপি তুলে দেন। নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।
এ সময় নওগাঁ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম সায়েম, আমার বাংলাদেশ পার্টির জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী আতিকুর রহমান, এনসিপির জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান মাহবুব আল হাসান সোহাগ, এলডিপির নওগাঁ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহেন শাহ, জাগপার জেলা কমিটির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি নাসির উদ্দিন, নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রহিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশের সাধারণ জনগণ এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক চাপ ও জনদুর্ভোগের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জীবন-জীবিকা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং তারা নিত্যদিনের ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপিতে জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে দেশের শিল্প-কারখানা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিদিনের দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিদ্যুতের বারবার মূল্যবৃদ্ধি ও ভুতুড়ে বিল চাপিয়ে দেওয়ার কারণে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া চাল, ডাল, তেল, চিনি, সবজি, মাছ, মাংস ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমেছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারি, সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির কারণে এই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে বলে স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়।
১১ দলীয় ঐক্যের ৭ দাবি হলো- গ্যাস সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা; ভয়াবহ লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা; বিদ্যুতের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার করা; ভুতুড়ে বিল আদায় বন্ধ করা ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের দ্রুত প্রতিকার দেওয়া; নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে জোরালো বাজার তদারকি নিশ্চিত করা; বাজার সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া; জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখতে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা।
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বরাবর স্মারকলিপিটি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”
কেকে/সাশ