শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: একমঞ্চে আসছে ৭ ইসলামি দল      বিভ্রান্তিকর উসকানিতে অস্থিতিশীলতার ছক      আজ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়      ফ্যাসিস্টের পতন হলে আর ফিরিয়ে আনা যায় না: রিজভী      শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : ভারত      ঘুরে দাঁড়াল টাইগাররা, জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সিরিজে সমতা      রাতে বৃষ্টি হতে পারে রাজধানীতে      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
অপরাধের নতুন সিন্ডিকেট : সংকটে জননিরাপত্তা
রেজাউল করিম খোকন
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:০১ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দিনদুপুরে দলবেঁধে এসে ব্যস্ততম বাজারে গুলি করে প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা, বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা—এসব ঘটনা মনে হতে পারে কোনো সিনেমার দৃশ্য। তবে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে চলছে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে। খুন-অস্ত্রবাজির এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা সবাই বিদেশে পলাতক এক কুখ্যাত সন্ত্রাসীর অনুসারী, এমন দাবি পুলিশের। দীর্ঘ সময় ধরে সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকলেও তাদের লাগাম টানতে পারছে না পুলিশ। এতে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও, বাকলিয়া, বায়েজিদ এবং জেলার হাটহাজারী, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়াসহ বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দাদের আতঙ্কে দিন কাটছে।

জানা গেছে, পলাতক সেই কুখ্যাত সন্ত্রাসী বিদেশে বসে চট্টগ্রামে খুন, চাঁদাবাজির নির্দেশনা দিয়ে আসছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গড়ে তুলেছে অর্ধশতাধিক সক্রিয় সদস্যের বাহিনীর নেটওয়ার্ক। বাহিনীর সদস্যরা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। প্রযুক্তির ব্যবহারেও এগিয়ে থাকা এবং পাহাড়ি এলাকায় আস্তানা তৈরির কারণে তার সহযোগীদের ধরা কঠিন হয়ে উঠেছে। দিনদুপুরে অতর্কিতে এসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার পর পাহাড়ের নিরাপদ আস্তানায় গা ঢাকা দেয় সন্ত্রাসী বাহিনীটির সদস্যরা। মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিদেশে পলাতক সেই কুখ্যাত সন্ত্রাসীর সহযোগীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। খুন ছাড়াও নির্মাণাধীন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করে আসছে সেই সন্ত্রাসীর অনুসারীরা। বিশেষ করে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও এবং হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজান এলাকায় ভবন নির্মাণের জন্য তার অনুসারীদের চাঁদা দিতে হচ্ছে। সেই কুখ্যাত সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। ওই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক বাহিনীতে ৫০ জনের বেশি সক্রিয় সদস্য রয়েছে।

সর্বশেষ, অতি সম্প্রতি নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় সন্ত্রাসীরা। এখানেও সেই বিদেশে পালিয়ে থাকা কুখ্যাত সন্ত্রাসীর অনুসারীরা হামলায় জড়িত। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রতিষ্ঠানের মালিক জানিয়েছেন, দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে ডেভিড ইমন (মোবারক হোসেন ইমন) পরিচয়ে একজন তার সঙ্গে কথা বলে। এ সময় ইমন বলে, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি। মাসে দিবি ১০ লাখ। এখন থেকে ব্যবসা আমরা করব।’

তাদের দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা এ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশীয় অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুঠোফোন এবং বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সেখানে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এর আগে চট্টগ্রাম শহরের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পাহাড়বেষ্টিত এলাকা জুড়ে সন্ত্রাসী চক্রের অভয়ারণ্য সৃষ্টির খবর দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। ওখান থেকে গিয়ে সন্ত্রাসীরা শহরের বিভিন্ন শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও লুটপাটের ঘটনা ঘটাত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল ওরা দীর্ঘ সময় ধরে। ওই পাহাড়বেষ্টিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণে। বাইরের কেউ ওখানে কিছু করতে পারত না। সরকারের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে তারা মোটেও পরোয়া করত না। ওখানে গড়ে তুলেছিল আলাদা একটি রাজ্য, যেখানে তারা তাদের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

‘মগের মুল্লুক’ বলে বাংলায় একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে। এর অর্থ বিশৃঙ্খল অবস্থা বা অরাজক পরিস্থিতি। যেরকম পরিস্থিতিতে কেউ কারও তোয়াক্কা করে না, কেউ কারও কথা শোনে না। তাই এখন যখন আমাদের সমাজে কেউ যেমন-তেমনভাবে অন্যের ওপর প্রভাব খাটায়, অত্যাচার করে, দুর্বল মানুষকে কষ্ট দেয়, তখন মগদের বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, অন্যায়, অনিয়ম ও যথেচ্ছাচারের সঙ্গে সেটা তুলনা করা হয় আর বলা হয়, ‘মগের মুল্লুক’।

এখনো যেন দেশের বিভিন্ন স্থানে তেমন মগের মুল্লুকের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক সময়ের কিছু চিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে কেবলই মনে হয়েছে, আমরা আসলে কোথায় বসবাস করছি। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ। এখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটানা ১৬ বছরের স্বৈরাচারী দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে একটি গণতান্ত্রিক সরকার। গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা শুরু হয়েছে।

একটানা ১৬ বছর ধরে চলা স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থায় এরকম অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা, অনিয়মের মহোৎসব, অন্যায়, অবিচার, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলদারিত্ব, ক্ষমতাসীনদের যথেচ্ছাচার, লুটপাট ও সন্ত্রাসীদের অবাধ তৎপরতা বিরাজমান ছিল, যা মগের মুল্লুকেরই নামান্তর।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পর এবার রাজধানী ঢাকা শহরের কিছু ব্যাপার তুলে না ধরে পারছি না। এখন সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর এলাকা। ঐসব এলাকা থেকে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাসাবাড়ি ও অফিস পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারই বেশি। নিরাপত্তাহীনতায় প্রাথমিক স্কুলেও কমেছে উপস্থিতি। পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে তারা।

এখন ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছে অবস্থিত আতঙ্কের এক বিস্তৃত এলাকার নাম মোহাম্মদপুর। পশ্চিমে বছিলা এবং বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত যার ভৌগোলিক সীমানা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে ছিনতাই, সশস্ত্র হামলা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। চাপাতি, ছুরি ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে অপরাধীরা হামলা চালাচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে।

রাস্তা-ঘাটে দিনরাত ছিনতাই, খুন ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রের আধিপত্যের জন্য মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের অন্তত ৮-১০টি এলাকা এখন অপরাধের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এখানে অন্ধকার পথে তৈরি হয়েছে গ্যাং সহিংসতা ও সহজলভ্য অস্ত্রের পরিবেশ, যেখানে তুচ্ছ ঘটনায় একে অপরের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে নির্মমভাবে। এমন নানা কারণে নান্দনিক নামের বাড়িগুলোর অসংখ্য ফ্ল্যাট ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ওখানে একসময় অভিজাত, ভদ্র, শিক্ষিত ও ভালো মানুষের বসবাস ছিল। আর এখন সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে চিহ্নিত এই মোহাম্মদপুর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন শত শত পরিবার। অন্য জায়গায় নতুন ঠিকানা গড়ে তুলছেন। কেউ কেউ বাড়ি ভাড়া দিতে না পারায় পুরো বাড়ি অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

যে অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা এবং সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেখানে, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। বারবার অভিযান পরিচালনা করেও সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, ডাকাত, মাদকসেবী ও ভয়ঙ্কর অপরাধে যুক্ত কিশোর গ্যাংয়ের অন্যায়-অত্যাচার রোধ করা সম্ভব হয়নি।

ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা বলেছেন, সন্ধ্যার পরে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে তাদের। স্থানীয়রা জানান, মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পগুলোতে স্কুলবিমুখ হয়ে পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা। এখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে দোকানে আগে অর্ডার হতো ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা, এখন অর্ডার দেয় দুই হাজার, তিন হাজার টাকা। কারণ, এখানে কোনো নিরাপত্তা নেই বলে বেচাবিক্রি অনেক কমে গেছে।

এলাকাটির জনঘনত্ব, ভাসমান জনসংখ্যা ও অপরিকল্পিত বসতি অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বেকারত্ব ও কম খরচে বসবাসের সুযোগও অপরাধপ্রবণতাকে উৎসাহিত করছে। সরু গলি, ঘনবসতি এবং ভৌগোলিক জটিলতার কারণে অপরাধীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে। ফলে তাদের ধরা কঠিন হয়ে পড়ছে।

পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, গোয়েন্দা পুলিশ এবং যৌথ বাহিনীর একাধিক অভিযান সত্ত্বেও এলাকাটিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসছে না। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, রাত নামলেই সশস্ত্র গ্যাংগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা অটোরিকশা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাই করছে। কিছু চালকের বিরুদ্ধে রাতের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। অটোরিকশা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে রাতে এসব যানবাহনের ওপর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

বেড়িবাঁধ, শেখেরটেক, তাজমহল রোড, মনসুরাবাদ হাউজিং এবং আদাবর এলাকায় একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। তারা চাপাতি, সামুরাই তলোয়ার ও ছুরি নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। গ্রেপ্তারের পর অনেক অপরাধী দ্রুত জামিনে বের হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। কিছু অপরাধী স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে নিরাপদে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর কিছু এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি কমে যাওয়াও অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। জনবল বৃদ্ধি, নিয়মিত টহল এবং সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযান ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রাউডসোর্সড অনলাইন ডাটাবেস সেন্টার এনইউএমবিইও-২০২৬-এ প্রকাশিত ক্রাইম ইনডেক্সের তথ্য বলছে, অপরাধের সূচক বিবেচনায় দক্ষিণ আফ্রিকার পিটারমারিটজবার্গ ৮২.৮ স্কোর নিয়ে তালিকায় সবার উপরে রয়েছে। সেখানে ৬২.২ স্কোর নিয়ে ঢাকার অবস্থান ৫৯। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাল্টেছে অপরাধের ধরন। তাই প্রতিকারে নতুন ভাবনা প্রয়োজন। ছোট অপরাধেও আমরা দেখি, বিভিন্ন ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে।

স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের অবসান হলেও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী চক্র সেই পুরোনো ধান্ধা শুরু করেছে। রাজনৈতিক প্রভাববলয় শক্তিশালী করতে অতীতে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অসুস্থ প্রবণতা ছিল। এটা সমাজজীবনে সন্ত্রাসের বিষবৃক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সেই বিষবৃক্ষের মূল উৎপাটন করা সম্ভব হয়নি।

আমাদের সবাইকে সচেতন এবং সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে, যাতে কোনো অপরাধী রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় না পায়। আমরা এরই মধ্যে দেখেছি, অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বা অপরাধীর নিজেরই রাজনৈতিক পরিচয় বেরিয়ে আসছে। নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু হলেও এখনো রয়ে গেছে আগের বেশ কিছু খারাপ রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এটা পরিবর্তন করতে না পারলে এ পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে না।

বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করতে হবে। এলাকায় সংঘটিত অপরাধের বিপরীতে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ভূমির দাম ঠিকমতো নির্ধারণ করতে হবে। এক গ্রুপ জায়গা দখল করে আরেক গ্রুপ দিয়ে। এ প্রবণতা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। আধিপত্যবাদ বা মাস্তানদের দিয়ে দাপট বজায় রাখার অসুস্থ, বিকৃত মানসিকতার অবসান ঘটাতে হবে। এটা না থাকলে অপরাধ অনেক কমে আসবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানা-পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষ শাখারও সন্ত্রাসীদের নজরদারিতে রাখা উচিত। এ জন্য পুলিশের সোর্সকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সন্ত্রাসীদের পেছনে কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

আমরা শান্তিপ্রিয় নাগরিক হিসেবে যে যেখানে আছি, স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে চাই। একশ্রেণির সন্ত্রাসী, মাস্তান, চাঁদাবাজ ও রাজনৈতিক দলের পেটোয়া বাহিনীর সদস্যদের অন্যায়-অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই। মগের মুল্লুকের মতো আইনশৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করা, বেআইনি কার্যকলাপ চলা, অবৈধ দখলদারিত্ব বজায় থাকা সমাজের অস্তিত্ব দেখতে চাই না।

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিভাগ, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আরও তৎপরতা জরুরি হয়ে উঠেছে এ মুহূর্তে। শুধুমাত্র ঢাকা, চট্টগ্রাম নয়; দেশের যেখানে এই মগের মুল্লুক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, যে বা যারা তাদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য শক্তিশালী নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুধু পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে সব সময় সব অপরাধী নির্মূল কিংবা দমন সম্ভব নয়। এখানে প্রয়োজন জনসচেতনতা।

মগের মুল্লুক বানিয়ে নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে তৎপর একটি গোষ্ঠী। তারা সমাজেরই এলিট, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। মগের মুল্লুক সৃষ্টির যে কোনো প্রচেষ্টা রোধ করতে শুরুতেই এসব দুর্বৃত্ত, দুষ্কৃতিকারীকে ঠেকাতে হবে, যে কোনো মূল্যে।

লেখক : কলামিস্ট

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  জননিরাপত্তা   নাগরিক দায়  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close