শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ       একমঞ্চে আসছে ৭ ইসলামি দল      বিভ্রান্তিকর উসকানিতে অস্থিতিশীলতার ছক      আজ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়      ফ্যাসিস্টের পতন হলে আর ফিরিয়ে আনা যায় না: রিজভী      শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : ভারত      ঘুরে দাঁড়াল টাইগাররা, জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সিরিজে সমতা      
রাজধানী
ফের আলোচনায় জি কে শামীম
নিজাম উদ্দিন, মোহাম্মদপুর
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ২:০৪ পিএম
জি কে শামীম

জি কে শামীম

সাম্প্রতিক সময়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন জি কে শামীম। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘রেলওয়ের বিজ্ঞাপনে একক নিয়ন্ত্রণ চান জিকে শামীম’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

জি.কে.বি. অ্যান্ড কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. গোলাম কিবরিয়া শামীম বলেন, “তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী। তবে ব্যক্তিজীবনে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেকে জড়াননি।’’

তিনি দাবি করেন, অতীতে তার সম্পাদিত ঠিকাদারি কাজের মান নিয়ে কখনো কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। তিনি সব সময় নিয়মনীতি মেনেই কাজ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার চলমান প্রকল্প থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তাকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তিনি দীর্ঘ ছয় বছর কারাগারে ছিলেন। ওই সময়ে তার বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মালামাল লুট হয়ে যায় এবং চলমান কাজগুলো অন্যরা দখল করে নেয়। পাশাপাশি তার বিল আটকে দিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।

তিনি আরও জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছিল। অতীতে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের নেতারা তার ব্যাপক ক্ষতি করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

জিকে শামীম বলেন, “তাকে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে ‘যুবলীগের নেতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অথচ তৎকালীন যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা প্রকাশ্যে বলেছেন, এস. এম. গোলাম কিবরিয়া শামীম কখনোই যুবলীগের কোনো কমিটিতে ছিলেন না এবং যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত নন।’’

তিনি দাবি করেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই তিনি ও তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের শিকার হয়েছেন। অথচ এরপরও বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে যুবলীগের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তার মতে অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিব্রতকর।

ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ প্রসঙ্গে জিকে শামীম বলেন, “তাকে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। তিনি আল্লাহর নামে শপথ করে দাবি করেন, কোনো দিন তিনি ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, এমনকি ক্যাসিনো সম্পর্কে তার কোনো ধারণাও ছিল না। তার বিরুদ্ধে ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট কোনো ভিডিও, ছবি বা অন্য কোনো প্রমাণ থাকলে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করার অনুরোধ জানাচ্ছেন। এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি প্রকাশ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন। তার দাবি, কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, যা ছিল পরিকল্পিত মিডিয়া ট্রায়াল।’’

তিনি আরও বলেন, “জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণেই তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেপ্তার করে। তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়, সম্পদ ক্রোক করা হয় এবং তার ৯০ বছর বয়সী মাকেও কারাগারে যেতে বাধ্য করা হয়।’’ এতে তার জীবন ও ব্যবসা সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তিনি।

রেলওয়ের বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে জিকে শামীম বলেন, “রেলওয়ের বিজ্ঞাপনে একক নিয়ন্ত্রণ চান জিকে শামীম'—এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।’’

তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে কারামুক্ত হওয়ার পর তিনি মাত্র একবার রেল ভবনে গিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কাজটি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার কথা এবং তার প্রতিষ্ঠানও প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের বৈধতা যাচাই শেষে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পেয়েছে। এখানে কোনো অনৈতিক বা অসৎ উপায় অবলম্বন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

মানিলন্ডারিং ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগও অস্বীকার করেন জিকে শামীম। তিনি বলেন, “জীবনে কখনো দেশের বাইরে কোনো অর্থ পাচার করেননি। তার কোনো সন্তান বিদেশে পড়াশোনা করে না এবং দেশের বাইরে তার কোনো সম্পদও নেই। তার দাবি, তার সব সম্পদ বৈধভাবে অর্জিত এবং তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষ করদাতা। তার প্রতিষ্ঠান ১৯৯১ সাল থেকে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছে।’’

এদিকে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিজ্ঞাপন নীতিমালার আলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে রেলওয়েকে অনুরোধ করা হয়েছে। জিকে শামীমের দাবি, এটি প্রমাণ করে তার প্রতিষ্ঠান সব ধরনের নিয়মকানুন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করতে আগ্রহী।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:   জি কে শামীম  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

রাজধানী- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close