কিশোরগঞ্জের নিকলীতে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ছাতিরচর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কাছুম আলী (৬৫) ছাতিরচর পূর্বপাড়া গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে। তিনি বিএনপি কর্মী। আহতরা হলেন বিএনপি নেতা রমিজ মেম্বার ও হিরু মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে ছাতিরচর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের জুম্মনের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এ বিষয়ে ছাতিরচর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি প্রার্থী জুম্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে বিএনপি নেতা রমিজ মেম্বারসহ স্থানীয় কয়েকজন ওই বালু উত্তোলনে বাধা দিয়ে আসছিলেন। এর জেরে শনিবার গভীর রাতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় কাছুম আলী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার নাজমুল ইসলাম জানান, কাছুম আলী ও রমিজ মেম্বার অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দিয়েছিলেন। পরে রাতে তাদের ওপর হামলা হয়। এতে কাছুম আলীর মৃত্যু হয় এবং আরও দুজন আহত হন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু বলেন, মার্ডারের বিষয়ে আমি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত তথ্য পাইনি। এমন একটি ঘটনার কথা শুনেছি, তবে এটি হত্যা কি না, নাকি হার্ট অ্যাটাক বা অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে— তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। যিনি মারা গেছেন তিনি বিএনপির একজন কর্মী।
তিনি বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমাদের দলের অবস্থান সবসময়ই স্পষ্ট। আমি বারবার উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। আমরা কখনোই এসব কর্মকাণ্ড সমর্থন করি না। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হোক এবং এ ঘটনায় যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে তার সুষ্ঠু ও আইনানুগ বিচার হোক।
অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু বলেন, আমার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বালু উত্তোলন হচ্ছে— এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। স্থানীয়ভাবে যিনি এমপি রয়েছেন, তিনি বিএনপির নন; তিনি বহিষ্কৃত এমপি (কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল)। মূলত তিনিই এবং তার সহযোগীরাই এসব বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ করেন। যতগুলো অবৈধ বালু উত্তোলনের স্থান রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে আমাদের দলের কোনো লোক জড়িত নেই। বর্তমান ঘটনার সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে, শুনেছি তারা গত দুই দিন ধরে এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। ঘটনার পরই আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। তারা গোপনে বা চুরি করে বালু উত্তোলন করছিল।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় যুবদল নেতা জুম্মন ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতা রমিজ মেম্বারের লোকজনকে ধাওয়া করেন।
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে রমিজ মেম্বারের লোক কাছুম আলী অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ওসি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রমিজ মেম্বার ও হিরু মিয়া আহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/ এমএস