শেষটা রূপকথার হলো না। আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতিয়ে বিদায় জানাতে পারলেন না লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। রানার্সআপের আক্ষেপে চোখ ভিজেছে তার।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পুরো ম্যাচজুড়ে মেসিকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে স্পেনের রক্ষণভাগ। শেষ দিকে একটি শট ও কয়েকটি কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি করা ছাড়া নিজের স্বভাবসুলভ প্রভাব রাখতে পারেননি তিনি। ১২০ মিনিট শেষে গোলশূন্য আর্জেন্টিনাকে হার মেনে মাঠ ছাড়তে হয়।
শেষ বাঁশি বাজার পর কিছুক্ষণ মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন মেসি। কোমরে হাত রেখে চারদিকে তাকিয়ে যেন উপভোগ করছিলেন বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তগুলো। পরে সতীর্থদের আলিঙ্গন করে মাঠেই বসে পড়েন তিনি। হতাশা আর বেদনায় মুখ ঢেকে ফেলেন।
ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল এগিয়ে এসে মেসিকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন। এরপর সতীর্থদের সঙ্গে মাঠ প্রদক্ষিণ করে সমর্থকদের অভিবাদন জানান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
রানার্সআপের পদক গ্রহণের পর মঞ্চ থেকে নামতেই গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক মেসির নামে স্লোগান দিতে শুরু করেন। সেই ভালোবাসার প্রতিধ্বনি আর ধরে রাখতে পারেননি তিনি। অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়।
৩৯ বছর বয়সী মেসির জন্য এটিই প্রায় নিশ্চিতভাবে শেষ বিশ্বকাপ। ২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপের সময় তার বয়স হবে ৪৩ বছর। তাই জাতীয় দলের জার্সিতেও তাকে আর দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। আট গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। তবে শিরোপা জেতার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে যেমন কেঁদেছিলেন, চার বছর পর ২০২৬ সালে কাঁদলেন হার আর অপূর্ণতার বেদনায়।
কেকে/ এমএস