শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬,
১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: এআইর দায়িত্বশীল ব্যবহার বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী      প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর      রাষ্ট্রপতি সংবিধানবিরোধী কাজ করলে তার শাস্তি হওয়া উচিত: নাহিদ      শাপলা চত্বর হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু ২৭ জুলাই: চিফ প্রসিকিউটর      সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নতুন অধ্যায়ে রাষ্ট্র      রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল দ্রুত ঘোষণা করা হবে: ইসি মাছউদ      নতুন রাষ্ট্রপতি ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করবে সংসদ      
দেশজুড়ে
মেয়েকে বাঁচাতে হাওরের পানিতে ঝরে গেল মিলনের জীবন
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:৫১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বাবা সন্তানের জন্য কতটা নিঃস্বার্থ হতে পারেন, তার আরেকটি মর্মস্পর্শী উদাহরণ কিশোরগঞ্জের বাছির উদ্দিন মিলন (৪২)। নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করে গভীর পানিতে ডুবে যাওয়া মেয়েকে বাঁচাতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি। প্রাণপণ চেষ্টায় মেয়েকে নিরাপদে তীরে তুলতে পারলেও আর ফিরতে পারেননি নিজে। হাওরের উত্তাল পানিতে নিভে যায় একজন স্নেহময় বাবার জীবন।

হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা হাওরের পাশে মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায়। কয়েক মিনিট আগেও যেখানে ছিল পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, মুহূর্তেই সেখানে নেমে আসে শোকের ছায়া।

নিহত মো. বাছির উদ্দিন মিলন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল পেট্রোল পাম্প এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আবু বাক্কার মাস্টারের ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে অসংখ্য মানুষের শারীরিক ব্যথা লাঘবের চেষ্টা করা এই মানুষটি শেষ মুহূর্তে নিজের জীবন উৎসর্গ করে বাঁচিয়ে গেলেন নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ—তার মেয়েকে।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিনের অবসরকে স্মরণীয় করে রাখতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শুক্রবার বিকেলে হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন মিলন। পরিবারের সদস্যরা নৌকায় করে হাওর ঘুরে দেখছিলেন। একপর্যায়ে করিমগঞ্জ উপজেলার শেষ সীমান্ত ও মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর ব্রিজসংলগ্ন একটি ডুবুডুবু সড়কের পাশে নৌকা থামিয়ে সবাই পানিতে নামেন গোসল করতে।

গোসলের সময় হঠাৎ অসাবধানতাবশত গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে মিলনের মেজো মেয়ে শেমন্ত্রী আক্তার। মেয়েকে পানিতে হাবুডুবু খেতে দেখে এক মুহূর্তও দেরি করেননি তিনি। নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে সরাসরি পানিতে ঝাঁপ দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেয়েকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালান মিলন। অনেক কষ্টে তিনি মেয়েকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে সক্ষম হন। কিন্তু মেয়েকে বাঁচানোর সেই সংগ্রামে নিজেই তীব্র স্রোত ও গভীর পানির সঙ্গে আর লড়াই করে উঠতে পারেননি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি পানির নিচে তলিয়ে যান।

পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন। স্থানীয় নৌকার মাঝি ও এলাকাবাসী দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে তাকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। উদ্ধারকারীরা তাকে মৃত অবস্থায় পান।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। যে মানুষটি কয়েক ঘণ্টা আগেও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আনন্দে সময় কাটাচ্ছিলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই মানুষকেই নিথর দেহে ফিরে পেতে হয় স্বজনদের।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউসের সামনে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, বন্ধু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সহকর্মীরা জানান, মিলন ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, দায়িত্বশীল ও মানবিক একজন মানুষ। রোগীদের প্রতি তার আন্তরিকতা ছিল প্রশংসনীয়। পরিবারই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই পরিবারের একজন সদস্যকে বাঁচাতেই তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাছির উদ্দিন মিলন পানিতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  পানি   মিলনের জীবন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close