রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতে পারে ৩০ জুলাই      আজ বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন মো. সাহাবুদ্দিন      ফের আগ্রাসী বিএসএফ      খুনখারাবিতে ইমেজ সংকটে বিএনপি      তিন কর্মকর্তার সমন্বয়হীনতায় বনভূমি দখলের মহোৎসব      তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান      ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
১১ দলীয় ঐক্যে ভাঙন
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৯ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটে আবারও নতুন করে ভাঙন ধরেছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে জোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছে খেলাফত মজলিস। একই সঙ্গে কওমি ধারার আরও কয়েকটি ইসলামি দলও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে এগোচ্ছে। এর আগে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনও এ জোট থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়।

গতকাল শনিবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় সাধারণ বৈঠকে জোট ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরুর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের কার্যকারিতা নির্বাচন শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। তাই এখন থেকে জোটের সব ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকবে খেলাফত মজলিস। তবে দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে নতুন কোনো ঐক্যের বিষয় বিবেচনা করা হবে।

দলের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সমঝোতা হয়েছিল, সেটি এখন আর কার্যকর নেই। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ কয়েকটি বিষয়ে মতৈক্য থাকলেও সেসব ইস্যুতে ভবিষ্যতে দলটি স্বতন্ত্রভাবে কাজ করবে।

খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের দূরত্ব অবশ্য এর আগেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশের পর দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে জোটকে জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতের কোনো কর্মসূচি বা প্রচারণায় তাদের দল কিংবা নেতাদের নাম ব্যবহার না করতে। পরে রংপুরের একটি সমাবেশে নাম ব্যবহার করা হলে আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে কওমি ধারার ইসলামি দলগুলোকে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের উদ্যোগ নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে সাতটি ইসলামি দলকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনার আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রতিটি দলের তিনজন করে প্রতিনিধি ছাড়াও হেফাজতে ইসলামের অন্তত ২০ জন জ্যেষ্ঠ নেতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে কওমি ধারার দলগুলো ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেয়। হেফাজতের আমির সম্ভাব্য ঐক্যের কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর কাছে লিখিত প্রস্তাব চেয়েছেন। আগামী আগস্টের শুরুতে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বৈঠকে সম্ভাব্য নেতৃত্ব ও ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাতটি দল একসঙ্গে থাকবে। তবে এ ঐক্যের কাঠামো বা ফর্মুলা কী হবে, তা শিগগিরই নির্ধারণ করা হবে।

হেফাজতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকা কওমি ধারার দলগুলোকে নতুন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা। যদিও বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সাতটি দল এক প্ল্যাটফর্মে এলে ভবিষ্যতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে আরও ভাঙনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে নতুন সম্ভাব্য জোটের নেতৃত্বে হেফাজতের আমির থাকবেন না বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাই জোটের নেতৃত্ব দেবেন। হেফাজতের আমির দিকনির্দেশনা ও পরামর্শকের ভূমিকা পালন করবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসলামি দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্নমুখী হয়ে পড়ে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন শুরুতে সমঝোতায় থাকলেও পরে আটটি আসনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ২৫৯টি আসনে নিজস্ব প্রার্থী দেয়।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব ভিন্ন অবস্থানের কারণে ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে হেফাজতের শীর্ষ আলেমদের একটি অংশের দূরত্ব তৈরি হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন দলের নেতাদের মধ্যেও মতপার্থক্য বাড়তে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসভায় একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনা করতেও দেখা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, সেই দূরত্ব কমিয়ে ধর্মীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমন্বিতভাবে কাজ করার লক্ষ্যেই নতুন এ ঐক্যের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, জোট ভাঙনের মধ্য দিয়েই পর্দা নামল জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচির। খেলাফত মজলিসকে ছাড়াই সিলেটে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জানা গেছে, জুলাই সনদের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে গত মে মাসে শুরু হওয়া ১১ দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক বিভাগীয় সমাবেশের পর্দা নামল সিলেটে। গতকাল নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সকাল থেকেই জড়ো হতে শুরু করেন দলগুলোর কর্মী-সমর্থকেরা। তবে মঞ্চে দেখা যায়নি জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের নেতাদের।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ১১ দলীয় ঐক্যে   ভাঙন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close