বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৮ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত তিন      এক দিনে সর্বোচ্চ ১৮৭২ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে, মৃত্যু পাঁচজনের      জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী      নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল : সড়কমন্ত্রী      প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা      জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে আইএমএফের কোনো শর্ত নেই : জাহেদ উর রহমান      চাপে সাধারণ মানুষ, নিরুপায় সরকার      
খোলাকাগজ স্পেশাল
গভীর সংকটে নিম্নবিত্ত, দিশেহারা মধ্যবিত্ত
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৪ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

আয় না বাড়লেও একের পর এক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের। যাতায়াত, বাজার, সন্তানের পড়াশোনা, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে এখন সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে। কেউ কমিয়ে দিচ্ছেন বাজারের তালিকা, কেউ বাদ দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় কিছু খরচ। এরই মধ্যে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ায় নতুন করে চাপে পড়েছেন তারা। 

সরাসরি পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন, কৃষি, শিল্প, নির্মাণ, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে নতুন করে বাড়ানো হয়েছে ১৭ পয়সা। এতে দূরপাল্লার বাস প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে। 

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে। ফলে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের বোঝা শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শিল্পকারখানা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের বাজারে। শেষ পর্যন্ত পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ঘাড়ে। 

রাজধানীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে যানবাহনের ভাড়া ও পরিবহন ব্যয়ে। এর সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে তার প্রভাব পড়বে পাইকারি ও খুচরা বাজারেও। ফলে আগামী দিনগুলোতে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা।

রাজধানীর মিরপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন রফিকুল ইসলাম। মাসে তার বেতন ৪৫ হাজার টাকা। স্ত্রী, দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে চারজনের সংসার। প্রতিদিন মিরপুর থেকে মতিঝিলে যাতায়াত করেন তিনি। তার ভাষায়, আগে মাসের আয় থেকে কিছু টাকা সঞ্চয় করতে পারলেও এখন সংসারের খরচ মেটাতেই পুরো বেতন শেষ হয়ে যায়। 

রফিকুল বলেন, ‘বেতন তো বাড়েনি। কিন্তু বাসাভাড়া, বাজার খরচ, সন্তানের স্কুলের খরচ সবই বেড়েছে। এখন আবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যাতায়াত খরচও বাড়ল। মাস শেষে হাতে কিছুই থাকবে না।’

একই চিত্র নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতেও। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সেলিম হোসেন। মাসে আয় করেন প্রায় ৩০ হাজার টাকা। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সংসার। তার বড় ছেলে স্কুলে এবং ছোট মেয়ে কিন্ডারগার্টেনে পড়ে। সেলিম বলেন, ‘বাজারে গেলে আগে ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ পণ্য পাওয়া যেত, এখন তা পাওয়া যায় না। চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ-মাংস সবকিছুর দাম বেশি। এর মধ্যে বাসভাড়া বাড়লে অফিসে যাতায়াতেই মাসে আরও কয়েকশ টাকা বেশি লাগবে। এই বাড়তি টাকা কোথা থেকে আসবে?’

মানিকনগরের একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমাদের মতো চাকরিজীবীদের আয় নির্দিষ্ট। মাসে অতিরিক্ত টাকা পাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু খরচ বাড়ার কোনো সীমা নেই। এখন যদি যাতায়াত ও বাজার খরচ আরও বাড়ে, তাহলে পরিবারের অন্য খরচ কমাতে হবে।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, পণ্য পরিবহনেও ব্যয় বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে কৃষিপণ্য, খাদ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল পরিবহনে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ওপর নির্ভর করতে হয়। জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় এসব যানবাহনের পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পণ্যের পাইকারি ও খুচরা দামে। ফলে চাল, ডাল, সবজি, মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। 

একজন সবজি ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা দূরের জেলা থেকে সবজি আনি। গাড়িভাড়া বাড়লে সেই খরচ তো পণ্যের দামের সঙ্গে যোগ করতে হবে। না হলে ব্যবসা করা কঠিন হবে।’ একই কথা জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরাও। তাদের মতে, পরিবহন ব্যয় বাড়লে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দামে প্রভাব পড়ছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, প্রতি কিলোমিটারে নতুন করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ১৭ পয়সা। তবে সরকার নির্ধারিত এই ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত এক পয়সাও বেশি আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সড়কমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ১ টাকা বাড়লে বাস ভাড়া কিলোমিটারে ১ পয়সা বাড়ার নিয়ম রয়েছে। সে হিসাবে লিটারে ২০ টাকা তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধি যৌক্তিক ছিল। পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকেও ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে আমূল পর্যালোচনার পর সাধারণ যাত্রীদের স্বস্তি দিতে ৩ পয়সা কমিয়ে ১৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি খাতেও সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের মাধ্যমে ভর্তুকির চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জনগণের কষ্ট হচ্ছে, হবে। জনগণের কাছে সহনশীলতা চাই। কারণ কত ভর্তুকি সরকারের পক্ষে দেওয়া সম্ভব?’

দাম বাড়ার প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও 

তেলের দাম বাড়ার একদিনের মধ্যেই কিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ঢাকার বিভিন্ন বাজারে সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের বলছেন, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি আনতে ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একেকটি ট্রাকে পরিবহন খরচ কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাড়তি এই ব্যয় পণ্যের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে যুক্ত করতে হচ্ছে। 

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শুধু সবজি নয়, চাল, মাছ, মাংস, ডিম, আলু ও পেঁয়াজসহ দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা পণ্যেও পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব পড়ছে।  

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গেলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বাজারে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। কেউ বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে বা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

চাপে কৃষি ও শিল্প

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব কৃষিতেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জমি চাষ, সেচ, ফসল পরিবহন এবং কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লে বাজারে কৃষিপণ্যের দামও বাড়ার চাপ তৈরি হবে। 

শিল্প খাতেও একই ধরনের প্রভাব পড়বে। পণ্য পরিবহন, জেনারেটর, নির্মাণকাজ এবং বিভিন্ন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জ্বালানি ব্যবহারের কারণে ব্যবসায়ীদের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

নির্মাণ খাতেও বাড়তে পারে ব্যয়। নির্মাণসামগ্রী পরিবহন এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরিচালনায় জ্বালানি ব্যবহারের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব আবাসন ও অবকাঠামো খাতেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিল্পে বাড়বে উৎপাদন ব্যয় 

কারখানায় সরাসরি জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি কাঁচামাল পরিবহন, তৈরি পণ্য সরবরাহ এবং শ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রেও জ্বালানি খরচ রয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে শিল্পের সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় বাড়বে। পোশাকশিল্পসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার মধ্যে উৎপাদন খরচ বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয় পুরোপুরি ক্রেতার ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে উদ্যোক্তাদের মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হবে। 

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প ইতোমধ্যে গ্যাস সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপের মুখে রয়েছে। শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বন্দরের পণ্য পরিবহন ও কনটেইনার ব্যবস্থাপনার খরচও বাড়ছে। ফলে আমদানি করা কাঁচামালের মোট ব্যয় এবং রপ্তানি পণ্য পরিবহনের খরচ উভয়ই বাড়বে।

বাড়বে জীবনযাত্রার ব্যয়

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। পরিবহন ব্যয় বাড়লে উৎপাদন থেকে শুরু করে পণ্য বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়। শেষ পর্যন্ত এর একটি বড় অংশ ভোক্তাকে বহন করতে হয়।

বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি হয়। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশ খাদ্য, যাতায়াত, বাসাভাড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ে চলে যায়। এসব খাতে ব্যয় বাড়লে সঞ্চয় কমবে এবং পরিবারের অন্যান্য ব্যয় সংকুচিত করতে হবে।

দুর্বল নজরদারি সরকারের

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার একদিনের মধ্যেই নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব দেখা দিলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর নজরদারি নেই বলে মনে করছেন সাধারণ ভোক্তারা। 

ভোক্তাদের অভিযোগ, শুধু সভা ও নজরদারির ঘোষণা নয়, বাজারে তার দৃশ্যমান প্রয়োগ দরকার। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা যাতে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারেন, সে জন্য নিয়মিত অভিযান, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  গভীর সংকট   নিম্নবিত্ত   মধ্যবিত্ত  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close