শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬,
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: রাজধানীতে রাত একটার মধ্যে হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি      দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যে সমর্থন নেই ভারতের      হামে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২১৮      রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন      কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে: নাহিদ      গণমাধ্যম শক্ত থাকলে গণতন্ত্র টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল      থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলা, শিক্ষার্থীসহ নিহত ৮      
দেশজুড়ে
মদনে অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে পাঁচ কোটি টাকার আশ্রয়কেন্দ্র
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪২ পিএম আপডেট: ০৭.০৮.২০২৬ ৯:৪৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

নেত্রকোনার মদন উপজেলার দুটি ‘মুজিব কিল্লা’ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নামকরণ করা হয় দূর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র। বর্তমানে অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। নেই কোনো তদারকি, ফলে আশ্রয়কেন্দ্র পরিণত হয়েছে মাদকসেবী ও জুয়ারিদের আড্ডাখানায়। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন এলাকার সচেতন সমাজ।
 
জানা যায়, নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী বড্ডা এলাকায় ২ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩৪ টাকা ও একই ইউনিয়নের মনিকা গ্রামে ২ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ১৯৮ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় দুইটি মুজিব কিল্লা। এ প্রকল্প জনগণের কতটা কাজে আসছে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুই জানে না এলাকার মানুষ। কেউ কেউ শুনেছেন বন্যা হলে এগুলোতে মানুষ ও গবাদি পশু আশ্রয় নেবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এ দুটি আশ্রয় কেন্দ্র (মুজিব কিল্লা) রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি। কোনো কাজেই আসছে এসব। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় দুইবছর আগরে নির্মিত মুজিব কিল্লা।

জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা যায়,  দুর্যোগ ও  ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে মদন উপজেলায় দুইটি আশ্রয়ণ কেন্দ্র (মুজিব কিল্লা) প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০২২ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ এখানো শেষ হয়নি। বড্ডা আশ্রয়কেন্দ্রটির কাজ এখনও বাকি রয়েছে। বন্যা হলে গবাদিপশু রাখা এবং অন্য সময় সামাজিক অনুষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ব্যবহার করে এসব কিল্লা নির্মাণ করে মোটা অংকের টাকা ব্যয় করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। প্রত্যেক গ্রামে গুচ্ছ গ্রাম রয়েছে, গ্রামের লোকের অভাবে অনেক ঘর ফাঁকা থাকে, থাকার মানুষ নাই। সব এলাকায় রয়েছে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র। অযথা এসব কাজ করে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।

গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম খান মামুন বলেন, ‘এই দুটি আশ্রয়কেন্দ্র হস্তান্তর হলে ইউনিয়ন পরিষদকে বুঝিয়ে দিতে বলেছিলাম। শুনেছি বড্ডা আশ্রয়কেন্দ্রে এখন মাদক সেবন ও জুয়া খেলা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় আসলে নিরাপত্তার জন্য দুজন গ্রাম পুলিশ নিয়োগ করতাম। তাহলে আর এমন অবস্থা হতো না।’ 

নেত্রকোনা তাজ এন্টার প্রাইজের প্রোপাইটার তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টুর প্রতিনিধি আবু হানিফ বলেন, ‘গোবিন্দশ্রী বড্ডার আশ্রয়কেন্দ্রর কাজ গত দুই বছরে শেষ হয়েছে। এখনও কেউ হস্তান্তর নিচ্ছে না।’ 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘একই ইউনিয়নে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে মনিকা আশ্রয়কেন্দ্রটির কাজ সমাপ্ত হয়েছে। তবে বড্ডা আশ্রয়কেন্দ্রটির কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। ফলে দুটি আশ্রয়কেন্দ্রই
হস্তান্তর নেয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি বিদ্যালয়গুলো যেন সেখানে ক্লাস নেন। এতে কেন্দ্রটি নিরাপত্তায় থাকবে।’

মদন উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক স্যার ও জেলা ত্রাণ   পুর্নবাসন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। যেহেতু এই এলাকাটি হাওরাঞ্চল সেই ক্ষেত্রে দূর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দূর্যোগ কখনও বলে আসে না। যেকোন সময় যেকোন মূর্হুতে দূর্যোগ চলে আসতে পারে।’ 

নেত্রকোনা জেলা ত্রাণ পুর্নবাসন কর্মকর্তা মুহাম্মদ রহুল আমিন দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র দুটি দেখার দায়িত্বে আছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ইউএনও অফিস। তাছাড়া হস্তান্তর করবে ইউএনওর কাছে। এখন হস্তান্তর হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। আমি একবার এখানে গিয়েছি। এরপর আর যাওয়া হয়নি।’

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  অবহেলা   অযত্ন   আশ্রয়কেন্দ্র  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close