জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা এবং এ নিয়ে পারিবারিক বৈঠকে হামলার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের সমন্তাহার গ্রামে এ ঘটনায় বড় ভাই বাবলু প্রামাণিকের ছেলে মো. শাহিন প্রামাণিক বাদী হয়ে ক্ষেতলাল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সমন্তাহার গ্রামের বাবলু প্রামাণিক ও তার ছোট ভাই সাজ্জাদুল হক ওরফে ভুট্টুর মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিরোধপূর্ণ জমিটি দক্ষিণ তাওসারা মৌজার জেএল নম্বর-১৫০, আরএস খতিয়ান নম্বর-১৩৬ ও দাগ নম্বর-১৪৫-এর অন্তর্ভুক্ত। প্রায় ৫৬ শতক জমির মধ্যে সাজ্জাদুল হক ৩৩ শতক জমির মালিকানা দাবি করছেন।
ভুক্তভোগী বাবলু পক্ষের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি প্রায় ৫০ বছর ধরে তাদের ভোগদখলে রয়েছে। জমির খাজনা পরিশোধ, নামজারি-খারিজসহ বিভিন্ন কাগজপত্রও তাদের নামে রয়েছে। সম্প্রতি জমি দখলকে কেন্দ্র করে ফের বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এর আগে গত ইরি মৌসুমে ওই জমির ধান কাটা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়। পরে কাটা ধান মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় রাখা হয়। উভয় পক্ষ নিজেদের জমির কাগজপত্র নিয়ে আইনজীবীর কাছে গেলে তাদের লিখিত মতামত নেওয়া হয়। এরপর সেই মতামতের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা ধান বাবলু পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
এ ঘটনার পরও জমি নিয়ে বিরোধের অবসান হয়নি। সম্প্রতি স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, সদস্য ও পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতে দুই পক্ষকে নিয়ে আবারও বৈঠক বসে।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে জমির কাগজপত্র ও মালিকানা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সাজ্জাদুলের পক্ষ বাবলু ও তার ছেলে শাহিনের ওপর হামলার চেষ্টা করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
মামুদপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন হোসেন বলেন, ‘বাবলু ও ভুট্টু আপন ভাই। একটি জমি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ইরি মৌসুমেও ধান কাটার পর সমস্যা হয়েছিল। পরে ধান আমার জিম্মায় রেখে উভয় পক্ষ আইনজীবীর কাছে কাগজপত্র দেখান। আইনজীবীর মতামতের পর ধান বাবলুকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আজও উভয় পক্ষ কাগজপত্র নিয়ে বসলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়।’
এ বিষয়ে সাজ্জাদুল হক ওরফে ভুট্টুর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এআই