পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশের পরও প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ১৩ একর ৩২ শতক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সৎ ভাইয়ের ওয়ারিশদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হয়রানি থেকে রক্ষা ও সম্পত্তি ভোগদখল নিশ্চিত করতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী কাঞ্চন আলী হাওলাদার।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে মঠবাড়িয়া সাংবাদিক ইউনিয়নে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কাঞ্চন আলী হাওলাদার এসব অভিযোগ করেন। তিনি উপজেলার হোতখালী গ্রামের মৃত এলেম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে কাঞ্চন আলী বলেন, দক্ষিণ হলতা মৌজার জেএল নং-৬২-এর বিভিন্ন খতিয়ান ও দাগভুক্ত মোট ১৩ একর ৩২ শতক জমি পৈতৃক, ক্রয় ও হেবা দলিলের মাধ্যমে তারা দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। জমিগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।
তিনি দাবি করেন, ওই সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে সৎ ভাই শের আলী গং ১৯৭৯ সালে বরিশালের দেওয়ানি আদালতে মামলা করেন। পরে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপর ১৯৮৪ সালে শের আলীর ছেলে লাল মিয়া ছানি মামলা করেন। ওই মামলায় ১৯৯৭ সালে একতরফা ডিক্রি পান লাল মিয়া।
কাঞ্চন আলী আরও বলেন, ১৯৯৮ সালে তারা মামলায় পক্ষভুক্ত হয়ে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০২ সালে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছর পিরোজপুর জজ আদালতে আপিল করা হলে ২০০৪ সালে আদালত পুনরায় তাদের পক্ষে রায় দেন।
পরবর্তীতে লাল মিয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন। উচ্চ আদালত মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য পিরোজপুর দেওয়ানি জজ আদালতে পাঠান। সেখানে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল লাল মিয়ার পক্ষে রায় দেওয়া হয়। এর মধ্যে লাল মিয়া মারা গেলে তার স্ত্রী রহিমা বেগম মামলায় বাদী হন।
কাঞ্চন আলী জানান, ওই রায়ের বিরুদ্ধে তারা গত ১৯ জুলাই হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিলের শুনানি শেষে আদালত রহিমা বেগমের পক্ষে দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়ে ছয় মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন বলে তিনি দাবি করেন।
তার অভিযোগ, হাইকোর্টে আপিলের বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিপক্ষের লোকজন রাতের আঁধারে বিরোধপূর্ণ জমির একাংশে জোরপূর্বক বীজ রোপণ করেন। এতে বাধা দিতে গেলে তাদের খুন-জখম এবং বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই মঠবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কাঞ্চন আলী আরও অভিযোগ করেন, এরপরও প্রতিপক্ষের লোকজন জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রাখে। গত ৩০ জুলাই লাল মিয়ার ছেলে কামাল, ভাতিজা অলিউল, সোহেল, সৈকত, ছোট ভাই নুরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই শাজাহান বাদশাসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ছয়জনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।
তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময়ে রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিতে গিয়ে ধানের চারা রোপণের চেষ্টা করছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। আদালতের আদেশের কাগজ এখনো থানায় পৌঁছায়নি। আদালতের নির্দেশনা হাতে পাওয়ার পর সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের পক্ষের রহিমা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে কাঞ্চন আলী হাওলাদারের ভাই রুস্তম আলী হাওলাদার ও আনোয়ার হোসেন হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/ এমএস