কিশোরগঞ্জে আবু বাক্কার সিদ্দিক হত্যা মামলায় তার ছেলে মো. সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় নিহতের স্ত্রী মোছা. আছিয়া খাতুন, ছেলে মো. জাবেদ ও পুত্রবধূ মোছা. ময়না খাতুনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান এ রায় দেন।
রায়ে মো. সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় সেলিম আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার স্বল্প যশোদল ভুরিরচর গ্রামের আবু বাক্কার সিদ্দিকের সঙ্গে তার স্ত্রী আছিয়া খাতুনের পারিবারিক বিরোধ হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্ত্রী, দুই ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে তার বিরোধ আরও তীব্র হয়।
পরে ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই রাতে প্রতিদিনের মতো খাবার খেয়ে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে যায় আবু বাক্কার। সে রাতে আসামিরা ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন এবং লাশ কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
পরদিন সকালে ছেলে সেলিম উঠানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন যে, তিনি তার বাবাকে হত্যা করেছেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে পরিবারের লোকজন তাকে আটক করেন। স্বজনরা ঘরে গিয়ে কম্বল সরিয়ে আবু বাক্কার সিদ্দিকের মাথার ডান পাশে গুরুতর জখম ও বিছানায় রক্ত দেখতে পান। দ্রুত কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত সেলিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় সেলিম, জাবেদ, আছিয়া খাতুন ও ময়না খাতুনসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।
কেকে/এআই