বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬,
৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত      ছয় ব্যাংকে আটকে আছে ডেসকোর ২৫০ কোটি টাকা      পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া      এনবিআরের পাঁচ অঙ্গীকার      কলকাতায় আগুনে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু      তিন জেলার ডিসি প্রত্যাহার      রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করব: মির্জা ফখরুল      
খোলাকাগজ স্পেশাল
নীলফামারীতে অনিয়মই যেন নিয়ম
শিক্ষা অফিসের দ্বৈতনীতিতে ধসে পড়ছে শিক্ষাব্যবস্থা
মোশাররফ হোসেন, নীলফামারী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৮ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নীলফামারীর প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক দ্বৈতনীতির একের পর এক অভিযোগ যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রশ্নপত্র ছাপানো, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্বাচনকেন্দ্র সংস্কারের বরাদ্দ, ইন্টারনেট ও কন্টিনজেন্সি বিল, ভ্যাট কর্তন, শিক্ষক ডেপুটেশন এবং কিন্ডারগার্টেনের পাঠদানের অনুমতি পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে কথিত দালাল সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। 

অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষা অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে। ফলে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাতের অভিযোগ, অন্যদিকে শিক্ষার মান ও বিদ্যালয়ের ফলাফল নিম্নমুখী হওয়ায় নীলফামারীর প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যত এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ যখন দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন, ডিজিটালাইজেশন ও শতভাগ স্বচ্ছতার মাধ্যমে ঢেলে সাজানোর রূপরেখা প্রণয়ন করছেন, ঠিক তখনই নীলফামারীর মাঠপর্যায়ের এই চিত্র সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাঠপর্যায়ে এমন ভঙ্গুর প্রশাসনিক কাঠামো ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের রেখে প্রতিমন্ত্রীর ঘোষিত ‘স্মার্ট ও আধুনিক প্রাথমিক শিক্ষা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা। 

সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দুর্নীতির খতিয়ান : 

নীলফামারী সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এখন অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশ্নপত্র ছাপানোয় অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি বরাদ্দ থেকে কমিশন নেওয়া, ভ্যাটের নামে অর্থ কেটে রাখা, দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপরি আদায়, ভুয়া চিঠিতে অবৈধ ডেপুটেশন, কন্টিনজেন্সি বিল গায়েব এবং কিন্ডারগার্টেন অনুমোদনে ঘুষ বাণিজ্য।

প্রশ্নপত্র ছাপানোয় হরিলুট : 

বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২য় প্রান্তিক মূল্যায়ন চলছে। নীলফামারী সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস প্রতিটি প্রশ্নপত্রের সেটের জন্য স্কুলগুলোর কাছ থেকে ১৩ টাকা করে আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ ২০৭টি বিদ্যালয়ের জন্য বিপুল পরিমাণ প্রশ্নপত্র ছাপানোর ক্ষেত্রে ছাপাখানার খরচ সেটপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৭ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। প্রশ্নপত্র ছাপানোর নামে অতিরিক্ত আদায় করা এই টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

কমিশন বাণিজ্য ও নির্বাচন ফান্ড লুট : 

সরকারি বরাদ্দ থেকে ব্যক্তিগত ভাগ নিশ্চিত করা নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিগত জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র সংস্কারের জন্য বিদ্যালয়গুলোতে আসা ১ লাখ টাকা অনুদান থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে একজন প্রধান শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

ভ্যাটের নামে জালিয়াতি : 

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিল থেকে ভ্যাটের নামে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কখনো ১০ শতাংশ, আবার কখনো ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ কেটে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংক স্টেটমেন্ট যাচাই করলে এসব অর্থ কাটার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

দুর্নীতির চেইন ও দালাল সিন্ডিকেট : 

বিভিন্ন ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এবং অফিসের কর্মচারীরাও শিক্ষকদের কাছ থেকে উপরি টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থের একটি নির্দিষ্ট ভাগ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন সহকারী শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে হাজিরা দিয়েই শিক্ষা অফিসে এসে আড্ডা দেন এবং ‘দালাল’ হিসেবে কাজ করে দুর্নীতির ভাগ পান বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুয়া চিঠিতে অবৈধ ডেপুটেশন : 

নিয়ম অনুযায়ী ডেপুটেশনে থাকা শিক্ষককে এক বছরের মধ্যে নিজ বিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়ার কথা। কিন্তু টাকার বিনিময়ে একাধিক শিক্ষককে ২ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত ডেপুটেশনে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তাদের মতে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ভুয়া চিঠি তৈরি করে এসব ডেপুটেশন দিয়েছেন।

কন্টিনজেন্সি বিল গায়েব : 

জেলার অন্যান্য উপজেলার বিদ্যালয়গুলো পুরো ১২ মাসের কন্টিনজেন্সি বিল পেলেও নীলফামারী সদর উপজেলার বিদ্যালয়গুলো গত অর্থবছরে ৯ মাসের এবং চলতি অর্থবছরের ৬ মাসের মধ্যে মাত্র ৩ মাসের বিল পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাকি টাকার কোনো হদিস নেই। এসব অর্থ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিজ পকেটে রেখেছেন, নাকি সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

কিন্ডারগার্টেন বাণিজ্য ও ব্ল্যাকমেইল : 

বেসরকারি স্কুলকে পাঠদানের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে অসঙ্গতি না পেলেও ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে প্রধান শিক্ষকদের ‘শোকজ’ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ওই শোকজের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার রহস্যময় নীরবতা ও দ্বৈতনীতি : 

পুরো জেলায় যখন প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠছে, তখন এসব বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ভূমিকা ও দ্বৈতনীতি নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে একেক জায়গায় একেক ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, নীলফামারী সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ইন্টারনেট বিলের ম্যাজিক : 

জুন মাসে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে ইন্টারনেট বিলের টাকা এলেও তা আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দম্ভ করে বলেছেন, ‘আমি ঠিক করব কাকে বিল দেব আর কাকে দেব না।’ অথচ এরপর ২০৭টি বিদ্যালয়কেই ইন্টারনেট বিল দিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি এসবের ‘কিছুই জানেন না’। অধস্তন কর্মকর্তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অবগত না থাকলে তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

বিলের টাকা ও ভ্যাটে হরিলুট : 

সদর উপজেলায় ১১ হাজার ৪০০ টাকা করে ইন্টারনেট বিল দেওয়া হলেও অন্য উপজেলাগুলোতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মনগড়া বিল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাকি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। কন্টিনজেন্সি, ইন্টারনেট কিংবা স্লিপের বিলে সরকারি নির্ধারিত ভ্যাট নীতিমালা থাকার পরও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো ভ্যাট কাটছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিচারের নামে প্রহসন : 

সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সরাসরি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করার পরও শিক্ষা অফিস নীরব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্টো এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিক হুমকির মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে ওই কমিটির এক সদস্য নিজেই একসময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার আসামি ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর কোনো দৃশ্যমান তদন্ত ছাড়াই রাতারাতি তাকে বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। অথচ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও তার বিরুদ্ধে তদন্ত তো দূরের কথা, তাকে তলব করা হয়েছে এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ রাখতে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করা হচ্ছে। ফলে জেলা শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগে কোথাও দ্রুত বদলি, কোথাও তদন্ত কমিটি, আবার কোথাও কোনো পদক্ষেপই না নেওয়ার ঘটনায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কথিত দ্বৈতনীতির বিষয়টি সামনে এসেছে।

দুর্নীতির জাঁতাকলে ধসে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা : 

শিক্ষা কর্মকর্তারা যখন নিজেদের পকেট ভারী করতে ব্যস্ত, তখন নীলফামারীর প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র কতটা ভয়াবহ, তা প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফল দেখলেই স্পষ্ট হয়। গুটিকয়েক বিদ্যালয় ছাড়া পুরো জেলার বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফলই চরম হতাশাজনক।

শহরের মধ্যে কেবল শাহীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া আর কোনো স্কুলের ফলাফলই আশানুরূপ নয় বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। একসময় যে নীলফামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে পুরো জেলা গর্ব করত, এখন তাদের ফলাফল শুধু খারাপই নয়, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। শহরের অন্যান্য পরিচিত স্কুল, জানকীনাথ, নতুন বাজার এবং শাখামাছা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কালীদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও এখন একেবারেই কম। অন্য যেসব বিদ্যালয় রয়েছে, সেগুলোর চিত্র আরও করুণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিমন্ত্রীর আধুনিকায়নের স্বপ্ন কি অধরাই থেকে যাবে : সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রাথমিক শিক্ষায় আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, শতভাগ উপস্থিতি এবং শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তার লক্ষ্য প্রাথমিক শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।

কিন্তু নীলফামারীর বর্তমান চিত্র বলছে, তৃণমূল পর্যায়ে ঘাপটি মেরে থাকা অসাধু কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে প্রতিমন্ত্রীর এই ভিশন বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। যারা স্কুলের উন্নয়ন বরাদ্দ, ইন্টারনেট বিল, প্রশ্নপত্র ছাপানোর অর্থ এমনকি কন্টিনজেন্সি বিল নিয়েও অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত, তাদের দিয়ে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা জাতির মেরুদণ্ড গড়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সেই ব্যবস্থাকে যারা দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করেছেন, তাদের অবিলম্বে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে নীলফামারীর শিক্ষাব্যবস্থাকে অনিয়মের চক্র থেকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে সরকারি অর্থের হিসাব নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গেলেই শুধু প্রাথমিক শিক্ষায় শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  শিক্ষা অফিস   দ্বৈতনীতি   শিক্ষাব্যবস্থা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close