গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক চালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আতা মিয়া (৬০) উপজেলার ঘাগটিয়া চালার বাটনা গ্রামের বাসিন্দা। হৃদয়বিদারক এ ঘটনার আরও মর্মান্তিক দিক হলো—ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে কিছুক্ষণ পরই মারা গেছেন তার বৃদ্ধা মা। একই পরিবারের মা-ছেলের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যার পর উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর শিমুলতলী এলাকায় মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি নির্জন মেঠোপথে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে আড়াল বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের শিমুলতলী সড়কের ফাঁকা স্থানে এক বৃদ্ধের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
আড়াল বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
নিহতের আত্মীয় মোস্তফা আকন জানান, আতা মিয়া অত্যন্ত সৎ, সহজ-সরল ও ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। পরিবারের অভাব ঘোচাতে বয়সের ভার উপেক্ষা করেও তিনি প্রতিদিন অটোরিকশা চালাতেন।
তর অভিযোগ, অটোরিকশা ছিনতাইকারীরা ভাড়ার কথা বলে আতা মিয়াকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে আতা মিয়ার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারে শুরু হয় আহাজারি। প্রিয় সন্তানের মৃত্যুর খবর সহ্য করতে না পেরে তার বৃদ্ধা মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনিও মারা যান বলে পরিবার ও স্বজনরা জানিয়েছেন। একই পরিবারের মা-ছেলের মৃত্যুতে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।
কেকে/এলএ