বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব বিএফআইইউর      ● ফুটপাত উচ্ছেদে উত্তেজনা, মিরপুরে হামলা-ভাঙচুর ও আগুন      ● বট ও গুপ্ত বাহিনীর মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: চিফ হুইপ      ● রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ৪০ সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার      ● টানা তিন দফা কমার পর আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম      ● খাদ্যে কোটি টাকার খেলা গুদামে দুর্নীতির মহোৎসব      
দেশজুড়ে
বিদ্যালয়ের চলাচলের রাস্তায় গাছ লাগানোর অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের চারআনি সাতআনি ধনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চলাচলের রাস্তায় গাছের চারা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। 

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, পার্শ্ববর্তী জমির মালিক মো. বারাকাত আলী দুদু বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথের দুই পাশে গাছ লাগিয়েছেন। এতে বর্তমানে চলাচলে সমস্যা না হলেও গাছগুলো বড় হয়ে উঠলে পথ সংকুচিত হয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত সরু পথটির দুই পাশে বেশ কিছু গাছের চারা লাগানো হয়েছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে এ পথ দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পথটি তুলনামূলক সরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় দুই পাশে লাগানো গাছ বড় হয়ে উঠলে পথের ব্যবহারযোগ্য জায়গা আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. দিল আখতার বানু বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করছে। চলাচলের জায়গার পাশে গাছ লাগানোয় আমরা উদ্বিগ্ন। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে রাস্তা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিই আমাদের দাবি। বিষয়টি প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।”

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর পার্শ্ববর্তী জমির মালিক মো. বারাকাত আলী দুদু বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চলাচলের ছোট রাস্তায় গাছ লাগান। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা না করেই গাছ লাগানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করে, এর আগেও বিদ্যালয়ের মাঠে সরকারি বরাদ্দে বৃক্ষরোপণের সময় ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথাকাটাকাটি এবং শিক্ষকদের সঙ্গে বিরূপ আচরণের ঘটনা ঘটেছিল। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চাঁন বলেন, “বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের পথ কোনোভাবেই যেন সংকুচিত বা বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আমরা আশা করি, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান করবে।”

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী বর্ষা বলে, “আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে আসি। রাস্তা যেন খোলা ও চলাচলের উপযোগী থাকে, আমরা সেটাই চাই। গাছ বড় হলে আমাদের চলাচলে সমস্যা হতে পারে।”

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ বলে, “আমরা কয়েকজন একসঙ্গে স্কুলে আসা-যাওয়া করি। রাস্তা সরু হওয়ায় চলাচলের সময় জায়গা কম পাওয়া যায়। স্কুলে আসার রাস্তায় যেন কোনো বাধা না থাকে, সেটাই আমাদের চাওয়া।”

অভিভাবক মোখলেছার রহমান বলেন, “এখানে মূল বিষয় হলো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত। জমি কার, রাস্তার জায়গা কোথায়—এসব প্রশাসন সরেজমিনে দেখে নির্ধারণ করতে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের চলাচলে কোনো ধরনের সমস্যা যেন না হয়, সেটি নিশ্চিত করা দরকার।”

অভিযোগের বিষয়ে মো. বারাকাত আলী দুদু বলেন, “আমার জমিতে স্কুল যাতায়াতের রাস্তা। রাস্তার দুই পাশে গাছের চারা লাগিয়েছি। রাস্তা বন্ধ করিনি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলব।”

এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close