লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ইউসুফ আলী (৪৫) নামে এক ক্লিনিক পরিচালকের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে থানায় মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা।
অভিযুক্ত ইউসুফ আলী উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাঞ্চনেশ্বর কানার বাজার এলাকার মৃত আছমত আলীর ছেলে। তিনি রংপুর নিউ রূপসী বাংলা ক্লিনিকের পরিচালক।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজের ক্লিনিকে প্রতিবেশী এক পোশাকশ্রমিক ও তার পরিবারের চিকিৎসার সুবাদে ওই বাড়ির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন ইউসুফ আলী। সেই থেকে বাড়ির নারীদের ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তার। বাড়িটির মালিক পোশাকশ্রমিক কাজের সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করায় সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতেন স্কুলছাত্রীর মা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাড়ির এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে তার মা ও খালা লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে যান। ফলে বাড়িতে একা ছিল অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই কিশোরী। এ সুযোগ দুপুরে তার মায়ের ফোন নম্বর নেওয়ার কথা বলে বাড়িতে প্রবেশ করেন ইউসুফ আলী। এরপর বাড়ির গেট ও রুমের দরজা বন্ধ করে স্কুলছাত্রীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন। পরে মেয়েটি চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে মারধর করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়।
পরবর্তীতে স্কুলছাত্রীর অসুস্থতা বাড়লে সে মোবাইলে তার মাকে বিষয়টি জানায়। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মামলার বাদী স্কুলছাত্রীর মা বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ মেয়ের জীবন যে নষ্ট করেছে, আমি তার ফাঁসি চাই। আমরা গরিব মানুষ। আসামিরা প্রভাবশালী, তারা নাকি টাকা দিয়ে সব কিনে ফেলেছে। তাই তাকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি টাকার অভাবে অসুস্থ মেয়ের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধও কিনতে পারছি না।’
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, ‘বাদীর এজাহারটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
কেকে/এআই