দেশের প্রধান তিন শিল্পাঞ্চলে চলতি বছরের আট মাসে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এসব কারখানা বন্ধের কারণে চাকরি হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক। শিল্প উৎপাদনে স্থবিরতা, তীব্র গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়া, বিনিয়োগে অনীহা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে এ সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
গতকাল সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক মিডিয়া সংলাপে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা তুলে ধরেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সিপিডি জানিয়েছে, সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নে ৩৬২টি পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করে প্রশাসন, অর্থনীতি, সুশাসনসহ ৯টি প্রধান ক্ষেত্র বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝাতে তৈরি ‘রিকভারি স্কোরকার্ডে’ পর্যালোচিত ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে মাত্র ১২টিতে উন্নতি হয়েছে। বিপরীতে ১৯টি সূচকে অবনতি ঘটেছে।
সিপিডির পর্যালোচনা অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী শিল্পাঞ্চলে এসব কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এর ফলে শুধু শিল্প উৎপাদন নয়, বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে শ্রমবাজারেও। চাকরি হারানো প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিকের পরিবারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট শিল্প খাতের সংকটকে আরও গভীর করেছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে একের পর এক কারিগরি বিপর্যয়, বিকল্প এলএনজি কার্গো সংগ্রহে জটিলতা এবং কার্গো গ্রহণের সমস্যার কারণে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে গ্যাসনির্ভর টেক্সটাইল, স্টিল, কাগজ, পার্টিকেলবোর্ড ও সিরামিক শিল্পের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্প উৎপাদনের পরিসংখ্যানেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে শিল্প উৎপাদনের সাধারণ সূচকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে মার্চ-এপ্রিল সময়ে উভয় ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে শূন্য শতাংশে।
অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের গতিও কমেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ শতাংশ, যা জুনে নেমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে। একই সময়ে ভবিষ্যৎ শিল্প বিনিয়োগের অন্যতম সূচক মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র খোলার প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ঋণাত্মক ১৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে।
সিপিডির পর্যালোচনায় শিল্পোদ্যোক্তাদের আস্থার সংকটের পেছনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি, জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার মতো ঘটনা শিল্পোদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করছে।
বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রমে অর্থনীতির কিছু সূচকে স্বস্তি ফিরলেও সামগ্রিকভাবে উদ্বেগই বেশি বলে মনে করছে সিপিডি। বিশেষ করে রাজস্ব আদায়, বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, ব্যাংক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা এবং সুশাসন ও প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
রাজস্ব, বিনিয়োগ ও শিল্পে উদ্বেগ
অর্থনীতির দুর্বল জায়গাগুলো নিয়েই বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিপিডি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আদায় প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে চলতি অর্থবছরে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে সরকারের ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। সিপিডির হিসাবে, সরকারের ব্যাংক ঋণ গ্রহণ লক্ষ্যমাত্রার ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগ আরও চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিতেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় শূন্যের কাছাকাছি চলে এসেছে। এসব সূচককে দেশের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সিপিডি।
দলীয়করণ নিয়ে উদ্বেগ
প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থায় দলীয়করণের ধারা অব্যাহত থাকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিপিডি। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও নিরপেক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাকে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগকে গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
সুশাসন ও মানবাধিকার পরিস্থিতিতেও ঘাটতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা সত্ত্বেও গণপিটুনি, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি।
রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা
সামনের দিনগুলোতে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে রাজস্ব ঘাটতি। সিপিডির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ কাটছাঁট করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সিপিডি। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সামাজিক খাতের উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি ও রপ্তানিতে স্বস্তি
সিপিডির পর্যালোচনায় অর্থনীতির কয়েকটি সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন উঠে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মূল্যস্ফীতি কমে আসা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ১ শতাংশ থাকা মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। মূলত খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে আসায় এই পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করছে সিপিডি।
রপ্তানি খাতেও ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেছে। জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ৩ দশমিক ২ শতাংশ থাকলেও মার্চ-জুলাই সময়ে তা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপিএম৬ হিসাব অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ৩০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার থাকা রিজার্ভ আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে বেড়ে ৩২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে আসায় এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।
সুশাসনে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ
সরকারের কিছু কৃচ্ছ্রসাধন ও সংস্কারমূলক উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে সিপিডি। সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট বরাদ্দ বাতিল, সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে যানজট কমানোর উদ্যোগ এবং সরকারি ব্যয়ে সংযমের বিষয়গুলো প্রতিবেদনে স্বস্তির জায়গা হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী তার মাসিক বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খাবারের ব্যয়ও জনপ্রতি ১৫০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
বিচারিক ব্যবস্থায় ই-বেইল বন্ড সিস্টেম ও ডিজিটাল সমন চালু এবং ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআইভিত্তিক ডিজিটাল মামলা ও জরিমানা ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে সিপিডি।
অক্টোবর থেকে ‘কোর বাজেট’ চায় সিপিডি
অর্থনৈতিক সংকট থেকে টেকসই উত্তরণে কয়েকটি জরুরি নীতিগত পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে সিপিডি। এর মধ্যে রয়েছে, বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৭ মেয়াদের জন্য একটি ‘কোর বাজেট’ প্রণয়ন।
পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, এনবিআর পুনর্গঠন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। জ্বালানি নিরাপত্তায় স্থগিত থাকা ১৫০টি কূপ খননের কাজ দ্রুত শুরুর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সিপিডি। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে অর্থমন্ত্রীকে সংসদে ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সুনির্দিষ্ট অ্যাকশন প্ল্যান উপস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।
ব্যক্তি বদল নয়, কাঠামোগত সংস্কারই হবে মূল্যায়নের ভিত্তি
আগামী দিনে সরকারের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে শুধু ব্যক্তি বা পদে পরিবর্তন নয়, বরং নীতি ও অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার কতটা হচ্ছে, সেটিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সিপিডি। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি দুই স্তরের মূল্যায়ন কাঠামোর কথা বলেছে।
প্রথম স্তরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ, ‘কোর বাজেট’ বাস্তবায়ন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্য নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের মধ্যমেয়াদি সমাধান এবং ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতি কমানোর বিষয়গুলো দেখা হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে স্বজনপ্রীতিমুক্ত রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
দ্বিতীয় স্তরে সংস্কারের ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও সমন্বয় কেমন এবং ব্যাংকিং, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে কায়েমি স্বার্থের প্রভাব কতটা কমানো যাচ্ছে, তা মূল্যায়ন করা হবে। সিপিডির মতে, সরকারের সাফল্য মাপতে ব্যক্তি পরিবর্তনের চেয়ে নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পরিবর্তনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না। বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা কমবে না, বরং যত দেরি হবে, পরিস্থিতি তত জটিল হবে বলে মনে করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, ছয় মাসেও বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। কেন পারছেন না? একটা বড় বিষয় আছে, আর্থিক সক্ষমতা। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা (৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা), তা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হবে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বেতন-কাঠামোর যে প্রতিবেদন দিয়ে গেছে, তা মূল্যায়ন করে ভাগে ভাগে বেতন-কাঠামো বাস্তবায়নের একটা সুপারিশ এসেছিল এবং তা সবাই মেনেও নিয়েছিল। এত দেরি না করে শুরুতেই যদি ২০-২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিয়ে দিতেন আর সময় প্রার্থনা করতেন, সেটা খুব ভালো হতো। এখন যে জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে, তা ভালো হয়নি।
কেকে/ এমএস