মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মাদক ও যৌতুকমুক্ত সমাজ গঠন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পেশাগত অধিকার সুনিশ্চিতকরণ নিয়ে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদ, শ্রীমঙ্গলের উদ্যোগে রেলস্টেশন জামে মসজিদে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতিগঞ্জ রাজ্জাকিয়া দারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম শায়েখ মাওলানা আব্দুল গফুরের সভাপতিত্বে এবং পরিষদের সহ-সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কাশেম আফসারীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন দারুসসুন্নাহ বালিকা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মনির উদ্দিন, সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি হাফেজ মাওলানা ফেরদাউস আহমদ, আশিদ্রোন জামিউল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল মালেক, সেক্রেটারি মাওলানা শাহিদুর রহমান সালেহ, সহ-সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান সিরাজী এবং রেলস্টেশন জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল আজিজ।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অন্যতম বাহক হিসেবে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তারা পেশাগত ও সামাজিকভাবে অবহেলার শিকার হচ্ছেন। দেশের অন্যান্য পেশাজীবীর মতো ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারিভাবে অথবা সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে নির্ধারিত স্কেলে সম্মানজনক বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পেশাগত অধিকার প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, মসজিদ পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে অযৌক্তিকভাবে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবসরকালীন ভাতা বা পেনশনের মতো সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
সরকারের পক্ষ থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদানের উদ্যোগের প্রশংসা করে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি যথাসময়ে সবার কাছে ভাতা পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনকে দ্রুত এর আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক ও যৌতুক ইসলামে যেমন গুরুতর অপরাধ, তেমনি রাষ্ট্রীয় আইনেও এগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মাদক ও যৌতুকের কারণে অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হচ্ছে। বিশেষ করে মাদকাসক্তির কারণে তরুণ ও যুবসমাজ বিপথগামী হয়ে সমাজে অপরাধ, বিশৃঙ্খলা ও অনাচার বাড়ছে।
সমাজের প্রতিটি স্তরে মাদকের ভয়াবহতা ও যৌতুকের অভিশাপ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে জুমার খুতবাকে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানান বক্তারা। একই সঙ্গে পাড়া-মহল্লায় মাদক ও যৌতুকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের নৈতিক ও মানবিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভায় যৌতুক দেওয়া-নেওয়াকে সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে সহজ, সাদাসিধে ও বরকতময় বিবাহব্যবস্থা প্রচলনে ইমামদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সভায় বক্তারা বলেন, মাদক ও যৌতুকমুক্ত আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা অপরিসীম। একই সঙ্গে তারা যে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করছেন, তার যথাযথ স্বীকৃতি, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের দায়িত্ব।
কেকে/সাশ