লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় প্রবাসী স্বামীকে রেখে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে চার সন্তানের জননী মুন্নি আক্তার জেসমিনের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ইতালি প্রবাসী জাকির হোসেনের বোন মারুফা বেগম।
জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে পারিবারিকভাবে জাকির হোসেন ও মুন্নি আক্তার জেসমিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে রয়েছে চার সন্তান। ২০০৯ সালে স্ত্রীকে ইতালিতে নিয়ে যান জাকির। ইতালিতে থাকা অবস্থায় বড় মেয়েকে বিয়ে দেওয়া নিয়ে কলহের সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই মাস আগে বাবার অসুস্থতার কথা বলে দুই সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন মুন্নি। এরপর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি পরিবারের।
পরবর্তী পরিবার জানতে পারে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের পূর্ব কাঞ্চনপুর এলাকার সৌরভ হোসেন চুট্টুর সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়েছে।
ইতালি থেকে বাংলাদেশে ফেরার সময় জাকিরের দেওয়া প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও ব্যাংকের এটিএম কার্ড সঙ্গে নিয়ে আসেন মুন্নি। এসবের মাধ্যমে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুন্নি আক্তার জেসমিন। তিনি দাবি করেন, তার স্বামী জাকির আরো দুটি বিয়ে করেছেন এবং ইতালিতে থাকাকালে স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তিনি অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন। তিনি কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি বলেও দাবি করেন।
এদিকে, স্বামীকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্নি ।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অর্থ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান প্রবাসী জাকির ও তার পরিবার।
স্থানীয় দেলোয়ার বলেন, ‘সৌরভ হোসেনের বিরুদ্ধেও কয়েক বছর আগে একই এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্পর্কের অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে মীমাংসা করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তবে বিয়েটি বেশি দিন স্থায়ী হয় নি।’
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এআই