রাজধানীর শ্যামলীতে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনার মূল আসামি মো. নয়ন (২৮) সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে সাতজন কিশোর গ্যাং লিডার ও ছিনতাইকারী, একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, একজন মাদক কারবারি এবং একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী রয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে রাজধানীর শ্যামলীতে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত একটি দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ঘটনায় মূল ছিনতাইকারী হিসেবে চিহ্নিত মো. নয়নকে মোহাম্মদপুর থানার নবীনগর হাউজিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-২।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন স্বীকার করেছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তারা পরস্পর যোগসাজশে মোহাম্মদপুর, আদাবরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিল।
একই দিনে মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ হাউজিং এলাকা থেকে আলোচিত ‘পাটালি গ্রুপের’ অন্যতম কিশোর গ্যাং লিডার ও ছিনতাইকারী মো. আলমকে (২৪) একটি সামুরাইসহ গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদপুরের বেরিবাঁধ এলাকা থেকে ১৯০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি মো. সবুজ হোসেনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে শেরেবাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠ এলাকা থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো. ফাহিম হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এ ছাড়াও মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোড এলাকা থেকে স্বীকৃত কিশোর গ্যাং লিডার ও ছিনতাইকারী সজলকে (২২) এবং সাত মসজিদ হাউজিং এলাকা থেকে একাধিক মামলার আসামি মো. সজলকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে ভুট্টোকে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বাসেক খান সড়ক (ক্যান্সার গলি) এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে মো. আবির ওরফে মিরাজকে (২২) একটি সামুরাইসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া পশ্চিম কাটাসুর এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্র ‘মুকুল গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য মো. হৃদয় ওরফে জ্যাক (২২) ও মো. শাওনকে (২২) একটি সামুরাই ও একটি চাইনিজ কুড়ালসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের পিসিপিআর যাচাইয়ে দেখা যায়, গ্রেপ্তার আলমের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা রয়েছে। সবুজ হোসেনের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। সজল (২২)-এর বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও শেরেবাংলা নগর থানায় চুরি ও দস্যুতার দুটি মামলা এবং সজল (২৪)-এর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদক ও দস্যুতার তিনটি মামলা রয়েছে।
এ ছাড়াও জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে ভুট্টোর বিরুদ্ধে তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নয়টি মামলা রয়েছে।
কেকে/এআই