চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনায় মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন।
গ্রেপ্তার কালা মোবারক ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর হাছি চৌধুরীর বাড়ির মো. লোকমানের ছেলে। অপর তিনজন হলেন— মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নাছির (৫২)। তারা সবাই ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকার বাসিন্দা।
অভিযানে ব্রাজিলের তৈরি একটি ৯ এমএম পিস্তল, ইতালির তৈরি একটি ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তল, পাকিস্তানের তৈরি একটি রিভলবার ও একটি দেশীয় পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও ৯ এমএম পিস্তলের ১৮ রাউন্ড, ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তলের পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন, তিনটি পিস্তলের গুলির খোসা এবং চারটি শটগানের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার মোবারকের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি, রাউজান ও চট্টগ্রাম নগরে একাধিক হত্যা ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তেও তার নাম রয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোবারককে শনাক্ত করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ওই হত্যা মামলায় এর আগে আফছার, ধামা ইলিয়াস ও দিদার নামের তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, পাহাড়তলী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল মোবারকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৯ এমএমের পিস্তলটি ব্রাজিলের তৈরি তরাস পিস্তল। প্রাথমিকভাবে অস্ত্রটি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে শনাক্ত করা হয়েছে। অস্ত্রটি কীভাবে পুলিশের হেফাজত থেকে অপরাধীদের হাতে পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, মোবারক চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাকে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর একজন শুটার হিসেবেও চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, মোবারকের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং চট্টগ্রাম নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া বড় সাজ্জাদের নির্দেশে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মোবারকের উপস্থিতির তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ, ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল আলম খান এবং তিন কনস্টেবল আহত হয়েছেন।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
কেকে/এআই