রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৫টায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। তবে মানববন্ধন চলাকালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে প্রতিবাদ ও বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হলে কর্মসূচিটি সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট স্থায়ী হয় বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রংপুরে একই পরিবারের চারজন সনাতন ধর্মাবলম্বী নিহত হওয়ার প্রতিবাদ ও সঠিক তদন্তের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হলে উপস্থিত কয়েকজন এর প্রতিবাদ করেন।
তারা প্রশ্ন তোলেন, একটি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে কেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে উপস্থিতদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
এরপরও কয়েকজন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের বিপরীত পাশে ধানমন্ডি ২৬ নম্বর সড়কের লেকের দিকে চলে যান।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোতাহার হোসেন নিলয় বলেন, ‘রংপুরে একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে বিকেল ৫টায় মানববন্ধন শুরু হয়। সেখানে মানববন্ধন শেষে বেশ কয়েকজন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে মানববন্ধনটি বিতর্কিত হয়ে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বন্ধ করতে বলা হলে সেখান থেকে যে যেভাবে পারে চলে যায়। এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ‘রংপুরে একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় লালমাটিয়া ২৭ নম্বর সড়কে মীনা বাজারসংলগ্ন এলাকায় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন শেষে মুহূর্তের মধ্যে কয়েকজন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে বিকেল থেকেই পুলিশের ফোর্স মোতায়েন ছিল।’
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কামাল পাশা চৌধুরী নামে একজন তাদের নেতৃত্ব দেন। সেখানে যথাসময়ে উপস্থিত থাকতে না পারলেও পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলো। পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কেকে/এআই