রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের অফিসে ঢুকে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির পাশাপাশি এক কর্মচারীকে মারধর ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের ৭-৮ ঘণ্টার মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে মোহাম্মদপুর থানায় এজাহারটি দায়ের করেন রয়েল অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডার্সের অফিস সহকারী মো. ইমরান (২০)। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। পরে মামলার ৭-৮ ঘণ্টার মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. রিফাত, মো. শুভ, মো. ইলিয়াস, মো. মহসিন, ইমন মৃধা ও মো. সাব্বির।
এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—সামছুদ দোহা (৪৪), ইমরান কাজল (৩৯) এবং চন্দ্রিমা মডেল টাউনের শাহীন মাল ওরফে ল্যাংড়া শাহীন (২৫)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নবীনগর হাউজিংয়ের ৬ নম্বর রোডের ৩১/এ নম্বর বাসার নিচতলায় রয়েল অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডার্সের অফিসে আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে প্রবেশ করেন। তারা প্রতিষ্ঠানের ডিএমডি কাজী ইজহারুল হক সেতুকে খুঁজতে থাকেন। তিনি অফিসে না থাকায় অফিস সহকারী ইমরান বিষয়টি জানালে আসামিরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
একপর্যায়ে আসামিরা তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ইমরান কাজলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কথামতো কাজ করার জন্য বলা হয়।
ইমরান অভিযোগ করেন, চাঁদা দাবির কারণ জানতে চাইলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়। একপর্যায়ে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় আঘাত করেন। তিনি বাম হাত দিয়ে আঘাতটি ঠেকানোর চেষ্টা করলে কনুইয়ের ওপর চাপাতির আঘাতে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়।
তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে আসামিরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে আহত ইমরান জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), শেরেবাংলা নগরে গিয়ে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা গ্রহণ ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে এজাহার দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর রাতেই অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুর এলাকায় নবীনগর হাউজিংয়ে নির্মাণাধীন প্লটে একটা গ্রুপ চাঁদাবাজি করতে গেলে সেখানের এক কোম্পানির কর্মকর্তাকে মারধর করা হয় পরবর্তীতে ভুক্তভোগী থানায় মামলা করলে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কেকে/এআই