নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজদের উদ্ধারে বিদেশি সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। ব্যাপক কূটনৈতিক চাপের মুখে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত বন্যায় ৫৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৯৭৭ জন। তাদের মধ্যে ৩১টি দেশের ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি নিখোঁজ ভারতের ১৭৮ নাগরিক। এছাড়া ৬৫ জন মার্কিন, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৩৫ জন অস্ট্রেলীয় ও ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল সরকার জানিয়েছিল, দেশটির নিজস্ব উদ্ধারকারী দলই উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম এবং বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে বিভিন্ন দেশের নিখোঁজ নাগরিকদের সন্ধানে তীব্র কূটনৈতিক চাপের পর এক দিনের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের সীমিত পরিসরে নেপালে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধার অভিযান, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেনসিক কাজে এসব বিশেষজ্ঞ সহায়তা করবেন।
নেপালের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপ ছিল। কারণ বন্যায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকও নিখোঁজ হয়েছেন। এ কারণে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”
ভারত ইতোমধ্যে টানেল উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসক দল এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের সদস্য পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার এ তথ্য জানান। একই দিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দেন।
দক্ষিণ কোরিয়াও নেপালে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর আগ্রহ জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দেশটির নয় নাগরিকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজনের ক্ষেত্রেই বিদেশি সহায়তা নেওয়া হবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানাল বলেন, “টানেল থেকে উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেনসিক শনাক্তকরণ—এই তিন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।”
বন্যায় রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার ১৪টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের বিভিন্ন টানেলে বহু শ্রমিক ও কর্মী আটকা পড়েছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্পের ৭৬ জন, রাসুয়াগাধি প্রকল্পের ৫১ জন এবং মেইলুং খোলা প্রকল্পের আটজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
এছাড়া লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলে আটকা পড়েছেন ৬০ জন। ত্রিশূলী-৩বি প্রকল্পের ৪৫ জন প্রযুক্তিবিদ, কর্মী ও পরামর্শকের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের একটি টানেলে এখনো ৩৫ জন অবস্থান করছেন।
নেপালের নিজস্ব পরীক্ষাগারগুলোর ডিএনএ পরীক্ষার সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করতেও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হবে। দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা করে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করাই এর মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন নেপালের কর্মকর্তারা।
সূত্র : কাঠামান্ডু পোস্ট
কেকে/সাশ