ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজে সংস্কারকাজের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে কুমিল্লার চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ারচর পর্যন্ত প্রায় ৪৫ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার বাসের যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল থেকে সংস্কারকাজ শুরু হয়। এ সময় একটি লেন বন্ধ রেখে অপর লেন দিয়ে উভয় দিকের যানবাহন চলাচল করানো হয়। এতে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। শুক্রবার রাত থেকে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে এবং শনিবার সকালে তা কুমিল্লার চান্দিনা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
সকালে মহাসড়কের চান্দিনা, দাউদকান্দি, গৌরীপুর, মেঘনা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেক যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে চরম দুর্ভোগ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। বিশেষ করে বিদেশগামী যাত্রী ও রোগী নিয়ে ঢাকামুখী যানবাহনের যাত্রীরা বেশি বিপাকে পড়েন।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস বলেন, “আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনে বড় গর্তের কারণে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়েছিল। কাজ চলাকালে একটি লেন দিয়ে উভয় দিকের যানবাহন চলাচল করানো হয়। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে যানজট তীব্র আকার নেয়। তবে শনিবার সকাল থেকে দুই লেনেই যানবাহন চলাচল করছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়া বিএনপির কাতার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এম এম নূর বলেন, “তিনি দাউদকান্দি থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গাড়িতে উঠেছিলেন। রাত ২টা ২০ মিনিটেও মেঘনা ব্রিজ এলাকায় আটকে ছিলেন।” তার ভাষ্য, মাত্র ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সাত ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।
মালবাহী লরি চালক সুকুমার বলেন, কুমিল্লার আলেখারচর এলাকায় টানা প্রায় ১৫ দিন যানজটে ভুগেছেন। এখন আবার মহাসড়কের এই অংশে এসে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দিনের পর দিন যানজটে আটকে থাকায় চালকদের সময়, জ্বালানি ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। মহাসড়কে চলাচল এখন চরম ভোগান্তির হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক ইসলাম বলেন, “মেঘনা থেকে চান্দিনা পর্যন্ত যানজট ছিল। তবে এখন ধীরে ধীরে তা কমে আসছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে পর্যাপ্ত হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজের সংস্কারকাজের কারণেই মূলত এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। কাজ শেষ হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এ রুটে বারবার যানজটের কারণে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
কেকে/সাশ