মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় নানা বাড়ির সম্পত্তি উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে নিরীহ অটোরিকশা চালকের লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে মো. নাসিম ওরফে ওয়াসিম নামে প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গজারিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা যায়, অটোরিকশাচালকের নাম মানিক মিয়া (৫৭)। তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় হলেও জন্মসূত্রে তিনি ঢাকায় বসবাস করতেন। তবে তার নানার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামে। প্রায় দুই দশক আগে গজারিয়ার হোসেন্দী এলাকায় জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন মানিক মিয়া।
মানিক মিয়া জানান, প্রায় দশ বছর আগে আড়ালিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মো. নাসিম তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওয়াসিম দাবি করেন, মানিক মিয়া তার নানির সূত্রে আড়ালিয়া গ্রামে প্রায় তিন কানি জমি পাবেন এবং কিছু টাকা খরচ করলে সেই জমি উদ্ধার করে দেওয়া সম্ভব। সচ্ছলতার আশায় তার কথায় রাজি হয়ে জমি উদ্ধারের জন্য তিনি ওয়াসিমকে প্রথমে ১০ হাজার টাকা দেন। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে দফায় দফায় প্রায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয় ওয়াসিম। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও জমির কোনো সুরাহা হয়নি।
তিনি আরও জানান, গত দুই বছর ধরে অসংখ্যবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। উল্টো ওয়াসিম এখন নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে বাধ্য হয়েই তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মানিক মিয়ার মা নীলা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে একেবারেই সহজ-সরল মানুষ, সে কিছুই বুঝে না। তার সাথে রীতিমতো প্রতারণা করে টাকাগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের অভাবের সংসার, টাকাগুলো ফেরত দিতে আমরা অসংখ্যবার ওয়াসিমকে অনুরোধ করেছিলাম। প্রথমে সে দিব, দিচ্ছি বলে কালক্ষেপণ করলেও এখন রীতিমতো আমাদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে।’
এ নিয়ে বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিসির আলি বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারটি অন্তত ৭-৮ বার আমার কাছে এসেছে। বিষয়টি গ্রামের প্রায় সবাই জানে। অসহায় পরিবারটির টাকা কীভাবে আদায় করে দেওয়া, যায় তা নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।’
এ বিষয়ে মো. নাসিম বলেন, ‘আমি তাদের কাছে যাইনি তারাই বরং আমার কাছে এসেছিল। কাগজপত্র তোলার জন্য যা টাকা-পয়সা খরচ লেগেছে, তারা শুধু সেটাই আমাকে দিয়েছে। এর বাইরে আমাদের মধ্যে কোন টাকা-পয়সা লেনদেন হয়নি। এমনকি আমি যে তাদের পিছনে অনেক সময় ব্যয় করেছি, সেই পারিশ্রমিকটুকু তারা ঠিকমতো আমাকে দেয়নি।’
এ নিয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ