জনবল সংকটের মধ্যেও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে অনুমোদিত ৩৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২০ জন। শূন্য রয়েছে ১৯টি পদ।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২০-২৯ আগস্ট পর্যন্ত (ছুটির দিন বাদ দিয়ে) সাত কার্যদিবসে বহির্বিভাগে ভর্তি ছাড়া চিকিৎসা নিয়েছেন ৩ হাজার ৮৫০ জন রোগী। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৫৫০ জন রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন।
গত জুলাই মাসে বহির্বিভাগে ৯ হাজার ৭৭১ জন এবং জরুরি বিভাগে ১ হাজার ৯০০ জন সেবা নিয়েছেন।
হাসপাতালের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কর্মরত ২০ জনের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একজন, কনসালট্যান্ট চারজন, মেডিকেল অফিসার ১১ জন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার একজন, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক একজন এবং ডেন্টাল সার্জন দুইজন রয়েছেন।
অন্যদিকে শূন্য থাকা ১৯টি পদের মধ্যে মেডিকেল অফিসার/সহকারী সার্জনের ১২টি এবং জুনিয়র কনসালট্যান্টের সাতটি পদ রয়েছে। এসব পদে চিকিৎসক না থাকায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন হলে রোগীদের জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু বিশেষজ্ঞ, চর্ম ও যৌন এবং কার্ডিওলজি বিষয়ে চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন হলে রোগীদের জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
অপারেশন সেবাতেও রয়েছে জনবল ঘাটতি। হাসপাতালে সার্জারি চিকিৎসক একজন কর্মরত থাকলেও এনেস্থিসিয়া চিকিৎসক নেই। ফলে এনেস্থিসিয়া চিকিৎসকের প্রয়োজন হলে পাশের পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক এনে অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মাসে গড়ে ১৫টি গাইনি অপারেশন করা হয়।
ডেন্টাল সেবায় ডেন্টাল সার্জনের দুইটি অনুমোদিত পদে দুইজনই কর্মরত আছেন এবং বর্তমানে ডেন্টাল সেবা চালু রয়েছে। তবে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টের একটি অনুমোদিত পদ থাকলেও সেখানে কোনো জনবল নেই।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ক্ষেত্রেও রয়েছে জনবল ঘাটতি। পাঁচটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন একজন। ফলে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জনবল সংকট থাকলেও বিদ্যমান জনবল দিয়ে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে রোগীদের আরও বিস্তৃত পরিসরে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলী হোসেন শাহ বলেন, ‘সীমিত জনবল দিয়ে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে রোগীদের আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’
কেকে/এমএ